আলাদা পে-স্কেলসহ একগুচ্ছ দাবি পুলিশের

১০ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালুর দাবি জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। পাশাপাশি ঝুঁকি ভাতা, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ৫০ শতাংশ ওভারটাইম বিল এবং চাকরির শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে অনারারি পদোন্নতির দাবিও তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়াম–এ অনুষ্ঠিত কল্যাণ প্যারেডে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পুলিশ সদস্যদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বাস দেন।

কল্যাণ প্যারেডে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র পে-স্কেল দীর্ঘদিনের দাবি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনীতে আলাদা পে-স্কেল চালু থাকলেও পুলিশ এখনো সেই সুবিধা পায়নি। জনগণের নিরাপত্তা ও সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে পুলিশের জন্যও পৃথক পে-স্কেল প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

মামলার তদন্তে নিয়োজিত থানার উপ-পরিদর্শকদের (এসআই) যাতায়াত সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় যানবাহনের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং জ্বালানি খরচ বাবদ ভাতা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এসআইদের জন্য আলাদা যানবাহনের ব্যবস্থা ও জ্বালানি সহায়তা দিলে তদন্তকাজ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।

এ ছাড়া কল্যাণ প্যারেডে এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা ঝুঁকি ভাতা ও ওভারটাইম ভাতার দাবিও উত্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর এক নারী কনস্টেবল চাকরিজীবনের বিভিন্ন ধাপে অনারারি পদোন্নতির দাবিও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যরা যারা কনস্টেবল বা ইন্সপেক্টর ওই জায়গা থেকে রিটায়ার্ড করে। বিশেষ করে কনস্টেবলরা যাতে রিটায়ার্ডের আগে অন্তত একটা র‌্যাংক পদোন্নতি দিয়ে অবসরে পাঠানো হয়; যেটা সেনাবাহিনীতে আছে। এতে করে সরকারের আবার কোনো আর্থিক ভর্তুকিও লাগবে না। অনারারি পদোন্নতি কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত এটা চাওয়া হয়েছে।

কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেওয়া এক ডিআইজি (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) জানিয়েছেন, পুলিশের থানা, ব্যারাক, ফাঁড়ি ও অন্যান্য ইউনিটের অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন ভবন নির্মাণে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ বরাদ্দ পুনরায় চালুর অনুরোধ জানানো হয়েছে সরকারের কাছে।

জানা গেছে, পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নিজ কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার পুলিশ বাহিনীকে জনগণ ও দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্নে পুলিশের আত্মত্যাগে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে নতুন অঙ্গীকার নিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার সময় এসেছে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও নিষ্ঠা দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এটিই সরকারের প্রত্যাশা।

এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–এ বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসাও করেন তারেক রহমান।