আদমদীঘিতে ৬০০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে, দিশেহারা কৃষক

১১ মে, ২০২৬

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও নওগাঁর তুলসীগঙ্গা নদীর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের রক্তদহ বিল এলাকার প্রায় ৬০০ বিঘা জমির উঠতি পাকা ইরি-বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা প্লাবিত ধানের শীষ কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

করজবাড়ি, দক্ষিণ গণিপুর, সান্দিড়া, বিশিয়াসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মাঠের এসব ফসল পানির নিচে থাকায় বিপুল পরিমাণ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও কৃষক ফরমান আলী, ময়েন উদ্দিন, মাহফুজুল হক, জালাল উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রশিদ, মনছুর রহমান ও ফজলুল হক জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং আকস্মিকভাবে উত্তরের নওগাঁর তুলসীগঙ্গা নদীর উজান থেকে ছাতনি হয়ে রক্তদহ বিল অভিমুখে ঢল নেমে আসে। 

এতে রক্তদহ বিল এলাকার করজবাড়ি, দক্ষিণ গণিপুর, সান্দিড়া, বিশিয়া গ্রামসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের ছয় শতাধিক বিঘা জমির উঠতি পাকা ইরি-বোরো ধান প্লাবিত হয়ে যায়।

তারা জানান, ধানগাছ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানির নিচে রয়েছে। অনেক জমির ধানগাছ পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও শুধু ধানের শীষ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ডুবে থাকা ধানের শীষ কেটে ঘরে তুলতে প্রতি বিঘায় শ্রমিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। তবে অধিকাংশ জমির ডুবে থাকা ধান কেটে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

ধান কাটার শ্রমিক শহিদুল বাবলু মিয়া জানান, অধিকাংশ জমিতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে নেমে ধানগাছের শুধু শীষ কাটতে হচ্ছে। এতে শ্রম বেশি লাগছে। পাশাপাশি পচা পানিতে কাজ করায় শরীরে চুলকানিও দেখা দিচ্ছে।

আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম জানান, অল্পদিনের মধ্যেই উজান থেকে আসা পানি নেমে যাবে। ফলে আবাদে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তিনি আরও বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।