কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ২৮

১১ মে, ২০২৬

 

কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শেফা নামের ১১ বছর বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।  

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ২৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৃত শিশু শেফা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুমারগাড়া এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে। গতকাল রবিবার (১০ মে) বিকেল ৪টার সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোট ৭৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২১৩ জনে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর এলাকাতেই আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।

উপজেলা ভিত্তিক আক্রান্তের চিত্রে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ৮ জন, খোকসায় ১ জন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ।

তথ্যমতে, এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১,২১৩ জনের মধ্যে ১,০৯৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনও অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যানুযায়ী, নিশ্চিতভাবে হাম প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা ৩ জন হলেও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. ফাতেমা খাতুন জানান, ভর্তিকৃত শিশুদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের অবস্থা দ্রুত অবনতি হওয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, জেলাজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।  

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। অবহেলা করলে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতায় মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।  

অনেক অভিভাবক অভিযোগ করছেন, সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত না হওয়ায় এবং সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মেডিকেল টিম এবং তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।