কালিগঞ্জে গৃহবধূ হত্যা ও পিতার মৃত্যুর বিচার দাবিতে মানববন্ধন; ওসির অপসারণ দাবি

১২ মে, ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূ সাজিদা খাতুন হত্যা এবং কন্যা হারানোর শোকে পিতা কেরামত আলীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামানের ফাঁসি এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

পাশাপাশি মামলা গ্রহণে গড়িমসি, তদন্তে ধীরগতি ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ তুলে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেনের অপসারণ দাবি করা হয়। সোমবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মোল্লারহাট খোলায় শোকাহত এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নিহত সাজিদা খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার এজাহারে একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও পুলিশ এখনো সব আসামির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। তারা দাবি করেন, বিচারহীনতার মানসিক চাপ ও মেয়েকে হারানোর গভীর শোক সহ্য করতে না পেরে সাজিদার পিতা কেরামত আলীর মৃত্যু হয়েছে।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বক্তারা কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. জুয়েল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, মামলা গ্রহণে গড়িমসি, এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং প্রভাবশালীদের পক্ষ নেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বক্তারা বলেন, “একজন ওসির কাজ জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু বর্তমান ওসির কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কয়েকজন বক্তা অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ডাকাতি, চুরি, দোকান ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের দৃশ্যমান ভূমিকা নেই। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় এজাহার ও তদন্তের নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তোলেন তারা। মানববন্ধন থেকে দ্রুত ওসিকে প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার দাবি জানানো হয়।মানববন্ধনে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার অসহযোগিতা ও গড়িমশির কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মাহমুদ ছোট্টু, আলেমেদ্বীন মাওলানা আবুল হায়াত, মাওলানা নুরুজ্জামান হাবিবি, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আমিনুর রহমান, নিহত সাজিদার ভাই আব্দুল খালেক ও আব্দুল মালেক, মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ মোস্তফা তুহিন, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ফাহিম মোনায়েম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোফিজুল ঢালী ও ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।