১২ মে, ২০২৬
ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও হালুয়াঘাটে দুই বাকপ্রতিবন্ধী এবং নান্দাইলে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) গ্রেপ্তারদের আদালতে ও ধর্ষণের শিকার তিনজনকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ঘাটেরকোনা গ্রামে ভাইয়ের বাড়ি বেড়াতে যান বোন।
সঙ্গে ছিলেন তার বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে (১৫)। গত সোমবার সকালে বৃষ্টির সময় মেয়েকে কেক খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মো. ইয়াসিন মিয়া (২৮) নিজ ঘরে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর মেয়ে হাউমাও করে ঈশারায় ইয়াসিনের সামনেই নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখিয়ে ধর্ষণের কথা জানায়। এ সময় উপস্থিত লোকজন ইয়াসিনকে ধরে পুলিশে খবর দেন।
পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, গত রবিবার বিকেলে হালুয়াঘাট উপজেলার জুবলি ইউনিয়নের চাতুগাঁও গ্রামে ১১ বছর বয়সের বাকপ্রতিবন্ধী শিশু প্রতিবেশী শাকুল সাংমা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, শিশুটিকে হত্যার ভয় দেখিয়ে পাশের এক জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. বক্তার মিয়াসহ আশপাশের লোকজন দেখে ফেলায় শাকুল পালিয়ে যান।
পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হলে সে ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার মা-বাবাকে নির্যাতনের কথা জানায়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাকুল সাংমাকে আটক করে।
এদিকে, নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুর অলিঘাট নামক এলাকার এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৫) প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত ৫ মে মাদরাসায় যাওয়ার সময় অপহরণ করে নিয়ে যায় প্রতিবেশী আব্দুল হকের ছেলে মো. ফাহিম মিয়া (১৮)। এর পর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। দুই দিন পর অপহরণকারী ফাহিম ওই মাদারাসাছাত্রীকে বাড়ির পাশেই একটি বাজারে রেখে পালিয়ে গেলে ওই মাদরাসাছাত্রী কোনো উপায় না দেখে ফাহিমের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়।
পরে সেখানে ফাহিমের পরিবারের লোকজন মারধর করলে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তাকে ময়মনসিংহ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে ফাহিম কর্তৃক আটকে রেখে ধর্ষণের কথা জানায়। এ ঘটনায় মাদরাসাছাত্রীর মা বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় গত রবিবার লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ সোমবার অভিযুক্তকে এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান, হালুয়াঘাট থানার ওসি ফেরদৌস আলম ও নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিন্টু কুমার দে জানান, মামলার পর অভিযুক্ত তিন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ধর্ষণের শিকার তিনজনকেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।