১২ মে, ২০২৬
দেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগের প্রধান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও ডিজিটাল অন্ধকারে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে বিএসসিপিএলসির সক্ষমতা, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ব্যান্ডউইথ ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিএসসিপিএলসি বর্তমানে সি-মি-উ-৪ এবং সি-মি-উ-৫ নামের দুইটি সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম সফলভাবে পরিচালনা করছে। বর্তমানে এই দুই সিস্টেমের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭,২০০ জিবিপিএস, যার মধ্যে ৪,১০০ জিবিপিএস ইতোমধ্যে দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আরও ৩,১০০ জিবিপিএস সরবরাহের সক্ষমতা সংস্থাটির রয়েছে।
লোহিত সাগর বা হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, লোহিত সাগর হয়ে মাত্র ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আসে, যা মোট সক্ষমতার মাত্র ১.৩৪ শতাংশ। অবশিষ্ট বড় অংশটি সিঙ্গাপুর ও চেন্নাই হয়ে সরবরাহ করা হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির প্রবণ অঞ্চলগুলোর ওপর নির্ভরশীল নয়।
সংবাদমাধ্যমে বর্তমান ক্যাবলগুলোর সক্ষমতা ও মেয়াদ নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাকেও ভুল বলে আখ্যা দিয়েছে বিএসসিপিএলসি। সি-মি-উ-৫ ক্যাবলের ২,২০০ জিবিপিএস সক্ষমতার মধ্যে এখনও ৭১২ জিবিপিএস অব্যবহৃত রয়েছে এবং এর মেয়াদ ২০৩৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত। অন্যদিকে, সি-মি-উ-৪ ক্যাবলকে পুরোনো বলে আতঙ্ক ছড়ানো হলেও এর মাধ্যমে বর্তমানে ২,৫৯৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ২০৩০ সালের পরেও এর আয়ুষ্কাল বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সি-মি-উ-৬ ক্যাবল স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করছে। ২০২৭ সালের শুরুতে এই নতুন সংযোগটি চালু হলে অতিরিক্ত ৩০,০০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে, যা রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট সক্ষমতাকে ৩৮,০০০ জিবিপিএসে উন্নীত করবে।
দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে বিএসসিপিএলসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করেছে।