রাঙামাটিতে কর্ণফুলীর ওপর নির্মিত হচ্ছে কেবল স্টেইড সেতু

১৩ মে, ২০২৬

রাঙামাটির চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম চার লেনের কেবল স্টেইড সেতু। প্রায় ১ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৫৩২ মিটার দীর্ঘ ৪ লেনের এ সেতু চালু হলে রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘ চার দশকের যাতায়াত ভোগান্তির অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎দীর্ঘ বছর ধরে রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা ফেরি ঘাট পার্বত্য তিন জেলার মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও রাঙামাটি হয়ে কক্সবাজার যাতায়াতের এ রুটটি বেশ জনপ্রিয়।

‎বর্তমানে ফেরির মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক হাজার ছোট-বড় যানবাহন পারাপার হয়। তবে ফেরি চলাচলে বিড়ম্বনা, দীর্ঘ অপেক্ষা ও দুর্ভোগের কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে  ছোট সাম্পান নৌকায় পারাপার করতে দেখা যায় যাত্রীদের। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা নেওয়া এবং ব্যবসায়িক কাজে চরম দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়। ১৯৮৪ সালে ফেরি চালুর পর বিভিন্ন সময়ে সেতু নির্মাণের আশ্বাস মিললেও তা বাস্তবায়নে মুখ দেখেনি।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি জরুরি রোগী ও গর্ভবতী নারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ফেরি বন্ধ থাকলে অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘ সময় আটকে থাকে ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হলে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের দীর্ঘ বছরের দুর্ভোগও লাঘব হবে।

‎দুর্ভোগ নিরসনে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের উদ্যোগে কর্ণফুলি নদীর উপর চার লেনের কেবল স্টেইড সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সেতুর পাশাপাশি টোল প্লাজা ও স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই সেতুটি চালু হতে পারে। বর্তমানে প্রকল্পটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‎ফেরি পারাপারের সময় অনু বড়ুয়া বলেন, ~এই সেতু দ্রুত নির্মাণ হলে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘ বছরের ভোগান্তি কমবে। বর্তমানে ফেরির জন্য ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী নিয়ে আসলে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।“ তিনি দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানান।

‎মো. নাজিম বলেন, রাতের বেলা ফেরি বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জরুরি রোগী নিয়ে ফেরির জন্য ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া ফেরিটির ইজারাদার নিজেদের ইচ্ছামতো ফেরি চালায়। সেতু নির্মাণের কথা বহু বছর ধরে শুনে আসলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।

‎রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাট এলাকায় কর্নফুলী নদীর ওপর দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। সেতুটি নির্মিত হলে রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং  এবং ফেরি পারাপারের দীর্ঘ বছরের ভোগান্তিও কমে আসবে। পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন এ সেতুকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়বে বলে তিনি জানান।

‎‎একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী সেতু প্রকল্প। সেতুটি নির্মিত হলে পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।