তফসিলি ব্যাংকের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৩ মে, ২০২৬

বাংলাদেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংক সমূহের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন ও সার্বিক সচেতনতা বৃদ্ধিও লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উদ্যোগে ব্যাংকসমূহের প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা সম্মেলন, ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনে বিএফআইইউ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ  কর্মকর্তাবৃন্দের পাশাপাশি অংশ নেন তফসিলি ব্যাংকসমূহের প্রধান নির্বাহী  কর্মকর্তা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন বিষয়ক কর্মকর্তাবৃন্দ।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি বিএফআইইউ এর প্রধান কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন মো. মামুন তার বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সততা, সুশাসন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার প্রসারের ফলে যেমন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বেড়েছে, তেমনি ই-কমার্স প্রতারণা, ট্রেড-বেইজড মানিলন্ডারিং ও সাইবার ঝুঁকির মত মারাত্মক আর্র্থিক অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সকল অপরাধ দমনে প্রয়োজন কার্যকর কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক কমপ্লায়েন্স এবং সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং এর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা।

তিনি ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে ব্যাংকসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া, এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং কর্তৃক আগামী ২০২৭-২৮ মেয়াদে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দেন।

তিনি আরও বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আমাদের একটি অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফআইইউ এর উপপ্রধান কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী।

সম্মেলনের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন ।

এছাড়া পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ, রিস্ক বেইজড্ সুপারভিশন, ঋণ জালিয়াতি ও ক্যাপিটাল ফ্লাইট প্রতিরোধ, ইথিক্যাল প্র্যাকটিস ও মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশনের উপর পৃথক উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। প্যানেল আলোচনায় বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকবৃন্দসহ দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রযুক্তিগত ইমার্জিং চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ক্রমান্বয়ে ডিজিটাল রূপান্তর এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের উপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান করা হয়।

ঋণ/বিনিয়োগ খাতে বেনামি প্রতিষ্ঠান, ভুয়া জামানত, ফান্ড ডাইভারশন ও ইচ্ছাকৃত খেলাপির মতো কৌশল ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রাহকের তথ্যাদি যথাযথ যাচাই, লেনদেন পর্যেবক্ষণ এবং সময়মতো এসটিআর/এসএআর রিপোর্টিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের সঙ্গে নতুন ধরনের সাইবার ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। এই লক্ষ্য অর্জনে সকল স্টেকহোল্ডারের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক কমপায়েন্স সংস্কৃতি গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।