১৫ মে, ২০২৬
বাগেরহাটে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুরহাট মাতাচ্ছে সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের বাগদিয়া গ্রামের বিশাল আকৃতির ব্রাহমা জাতের ষাঁড় ‘লাল বাদশা’। ১২০০ কেজি ওজনের গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। ষাঁড় কিনলে সাথে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ক্রেতাকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে ৩০ কেজি ওজনের ‘সোহেলি’ নামের একটি ছাগলও।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বভাবে শান্ত হলেও বিশাল আকৃতির ‘লালবাদশা’কে গোয়ালঘর থেকে বের করতেও প্রয়োজন হয় ৩ থেকে ৪ জন মানুষ। চার বছর ধরে যত্নে-ভালোবাসায় গরুটি লালনপালন করেছেন খামারি মোশাররফ শেখ। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খৈল, ভূষি, কাঁচাঘাস, ভাতের মাড়, খুদের ভাত, ভুট্টা, কলা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফল খাইয়ে গরুটি বড় করা হয়েছে। মোটাতাজাকরণের জন্য কোনো ধরনের ইনজেকশন বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি।
খামারি মোশারেফ শেখ জানান, শখের বসে গরু পালন শুরু করেন তিনি। ‘লালবাদশা’কে অনেক যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছি। ইতোমধ্যে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন, অনেকে দামও বলছেন। গরুটিকে সন্তানের মতো করে বড় করেছি। ‘লালবাদশা’ বলে ডাক দিলেই কাছে চলে আসে। বিক্রি করতে কষ্ট হবে। তারপরও ছেলের পড়াশোনা ও সংসারের প্রয়োজনে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা চাই গরুটি কোরবানির জন্যই বিক্রি হোক। আশা করছি কোরবানির আগ মুহূর্তে পছন্দমতো দাম পাব। আমি ১০ লাখ টাকা দাম চাচ্ছি, এই দামে কিনলে ক্রেতাকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে ৩০ কেজি ওজনের ‘সোহেলি’ নামের একটি ছাগল।
মোশারেফ শেখের প্রতিবেশী মশিয়ার রহমান বলেন, প্রতিদিনই অনেক মানুষ গরুটি দেখতে আসছে। এদের মধ্যে অনেকেই শুধু দেখতেই আসেন, আবার অনেকে দামও বলছেন। আমার দেখা দৃষ্টিতে লালবাদশা বাগেরহাটের কোরবানির পশুরহাটে অন্যতম বড় গরু।
বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ছাহেব জানান, মোশারেফ শেখ একজন ভালো খামারি। এরআগেও তিনি বড় গরু তৈরি করেছেন। তার খামারে দেশীয় খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। আশা করছি কোরবানির আগ মুহূর্তে তিনি ভালো দাম পাবেন। এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বাগেরহাটে মোট ৮৪ হাজার ৯৬৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বিপরীতে জেলার কোরবানির ঈদ চাহিদা ৭৭ হাজার ৮৮৯টি। ফলে চাহিদার তুলনায় জেলায় পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।