১৫ মে, ২০২৬
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় বিবেচনায় বিতর্কিত উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি বলেছে, অতীতের মতো আবারও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণের এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন ও গবেষণার আন্তর্জাতিক মান পুরোপুরি ধসে পড়বে।
শুক্রবার (১৫ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক নিরপেক্ষতা ও আইনি বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক আনুগত্য ও দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গণআকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে।
তাদের দাবি, এসব নিয়োগ কোনো মেধাভিত্তিক সার্চ কমিটির মাধ্যমে হয়নি; বরং এটি রাজনৈতিক তুষ্টির প্রতিফলন। নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষক প্যানেল ‘সাদা দল’ ও ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন ভিসির বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চারিত্রিক স্খলন ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। এমন ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবকের পদে বসানোয় ছাত্রসমাজ বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ বলে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের দলীয় অনুগত ব্যক্তিদের উপাচার্য করা হয়েছে। তারা এ সিদ্ধান্তকে ‘দলকানা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, অতীতেও অনুগত শিক্ষক প্যানেলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করে তারা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক মান ও গবেষণার পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
ছাত্রশিবির নেতারা অবিলম্বে দলীয় বিবেচনায় ঘোষিত বিতর্কিত ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিককরণের বিরুদ্ধে সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।