পর্তুগালে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি যুবক

১৬ মে, ২০২৬

পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় রাম প্রসাদ সরকার (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি আরো চার যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) দেশটির স্থানীয় সময় বিকেলে পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চলীয় আলগার্ভ প্রদেশের মেশিলহোইরা গ্রান্দে এলাকায় যাত্রীবাহী একটি ট্রেনের সঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত রাম প্রসাদ সরকার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভা এলাকার সরিষাদাইড় গ্রামের নিপেন্দ্র সরকারের ছেলে। সে (বাংলাদেশে) মির্জাপুর বাজারের ইতালি মার্কেটে দীর্ঘদিন যাবৎ ল্যাপটপ-কম্পিউটার মেরামতের কাজ করতেন। 

অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চাকরি নিয়ে তিনি গত ১০ দিন আগে পর্তুগালে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি কয়েকজন জানিয়েছেন, রাম প্রসাদসহ পাঁচজন বাংলাদেশি ওই মাইক্রোবাসটি নিয়ে (ব্যক্তিগত গাড়ি) একটি রেলক্রসিং অতিক্রম করছিল। এসময় দ্রুতগতির একটি ট্রেন মাইক্রোবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে রেল সড়কের পাশেই ছিটকে নিচে পড়ে। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই রাম প্রসাদ সরকারের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া গাড়িতে থাকা চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে দেশটির ১১টি জরুরি উদ্ধারকারী যানবাহন, একটি বিশেষ মেডিক্যাল হেলিকপ্টার, দমকল বাহিনী, পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পোর্তিমাও ও ফারো হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সেখানকার চিকিৎসকরা রাম প্রসাদের সহকর্মীদের জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে পোর্তিমাও এবং মেক্সিলহেইরা গ্রান্দে স্টেশনের মধ্যবর্তী রেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয় বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সিগন্যাল বা সময়ের অসতর্কতার কারণে গাড়িটি চলন্ত ট্রেনের সামনে চলে আসায় এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্তুগিজ পুলিশ।

নিহত রাম প্রসাদ সরকারের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায় হওয়ায় পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং তার নিজ এলাকা মির্জাপুরে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। রাম প্রসাদের অকাল মৃত্যুতে সহকর্মী-বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিরাজ করছে বিষন্নতা। তাঁর লাশ দেশে ফেরা নিয়ে কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। বর্তমানে তার লাশটি ফারো হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।