১৬ মে, ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে ক্যাম্পাসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে রোববার। দিনব্যাপী আয়োজনে ১০টি ফ্রি টেস্টসহ মোট ১১টি সেবা পাবেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলবে। ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) ঢাকা সিটি সাউথ শাখার সার্বিক সহযোগিতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আয়োজকরা জানান, আমাদের মূল উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদান করা।
জানা যায়, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। ফ্রি টেস্টের আওতায় থাকছে— Hb%, RBS, HbA1c, TSH, Vit-D, CRP, Troponin-I, Urine Strip Test, ECG এবং USG। এছাড়া রোগীদের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
এছাড়া কর্মসূচিতে মেডিসিন, অর্থোপেডিকস, জেনারেল সার্জারি, চক্ষু, গাইনি ও প্রসূতি, মানসিক রোগ, চর্মরোগ, হৃদরোগ, নাক-কান-গলা (ইএনটি), বক্ষব্যাধি ও ডেন্টাল বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সেবা দেবেন।
মেডিকেল ক্যাম্পের সার্বিক প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার কথা বিবেচনা করে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমান সময়ে চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাকে অবহেলা করে, যা পরবর্তীতে বড় আকার ধারণ করে। আমরা চাই একদিনের জন্য হলেও জবি পরিবারের প্রত্যেকে যেন কোনো ধরনের আর্থিক চিন্তা ছাড়াই ক্যাম্পাসের ভেতরেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা ও সঠিক পরামর্শ পেতে পারেন।
এ বিষয়ে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্যাথলজি সুবিধাসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। আমরা ভবিষ্যতে এটার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাই। শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের জোর প্রচেষ্টা থাকবে ইনশাআল্লাহ।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত মেডিকেল সেন্টার থেকে এ ধরনের প্যাথলজি সুবিধাসহ চিকিৎসা সেবা দেওয়া। আমরা এটার জোর দাবি জানিয়ে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে আমাদের জায়গা থেকে এ উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে জানান তিনি।
এছাড়া সার্বিক সহযোগিতার জন্য ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।