পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ইউপিডিএফের ৩ সন্ত্রাসী আটক

১৭ মে, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার দুপুরে গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন বুদংছড়া এলাকায় এই অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং চাঁদাবাজির সরঞ্জামাদিসহ পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) দলের পোস্ট কালেক্টর রনেল চাকমাসহ ৩ জন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।

আইএসপিআর সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি আভিযানিক দল দুপুরের দিকে বুদংছড়া এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে। আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওই এলাকা অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেনাসদস্যরা তাদের থামার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেনাসদস্যদের চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীর আভিযানিক দলও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের এই গোলাগুলিতে ইউপিডিএফ (মূল) দলের সদস্য সাথোয়াই মারমা ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে রনেল চাকমা ও সার্চিং মারমা ওরফে রাজু নামের বাকি দুই সন্ত্রাসীকে আটক করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী।

গোলাগুলি শেষে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি ম্যাগাজিনসহ একে-২২ রাইফেল, ৬ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ফায়ারকৃত গুলির কার্তুজ এবং চাঁদাবাজির আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে। গুলিবিদ্ধ আহত সন্ত্রাসী সাথোয়াই মারমাকে ঘটনার পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশি হেফাজতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর এই কঠোর ও চিরুনি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।