পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কুরবানির পশু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই: প্রতিমন্ত্রী

১৭ মে, ২০২৬

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আসন্ন কুরবানির ঈদে দেশের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত গরু মজুত রয়েছে। বাংলাদেশ এখন কুরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে দেশ পশু রফতানির দিকেও এগিয়ে যাবে।

রবিবার বিকালে বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে ‘টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন: আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, পশুর চামড়ার দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। চামড়ার দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিরা যাতে সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারেন।

সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে। খামারি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাণিসম্পদ খাত আরও এগিয়ে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খামারিদের কল্যাণে কাজ করেছিলেন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল না।

তার পরিকল্পনার ফলেই অল্প সময়ের মধ্যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। তারই যোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছেন। বিনাসুদে কৃষিঋণ প্রদান করা হবে। যার আওতায় খামারিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। আমাদের সরকার সব সময় খামারিদের পাশে আছে।

আপনারাও সরকারকে সহযোগিতা করবেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) বেগম শামসুন্নাহার আহম্মদ এবং প্রাণিসম্পদ ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোস্তফা কামাল, বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। এছাড়াও খামারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল হুদা তীলক ও সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিন নাহিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রায় চার শতাধিক খামারি অংশ নেন।

সেমিনার শেষে সন্ধ্যায় বগুড়া শহরতলীর জয়পুরপাড়ায় নবনির্মিত আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কসাইখানাটি ৫০ ডেসিমেল জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু এবং ৩০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও প্রস্তুত করা যাবে। সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেভেলপমেন্ট অব লাইভস্টক সার্ভিসেস কর্মসূচির আওতায় এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর কসাইখানাটি বগুড়া সিটি কর্পোরেশন-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।  

সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান জানান, আধুনিক কসাইখানা চালু হলে শহরের যত্রতত্র গরু-ছাগল জবাই কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। এখান থেকে প্রসেস করা এবং সিটি কর্পোরেশনের সিলযুক্ত মাংস ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হবে।

তিনি আরও জানান, অত্যাধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা থাকবে না। তবে কসাইখানাটি পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। যা মাসে প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ৯ লাখ টাকায় পৌঁছাবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ৩০টি গরু প্রসেস করা গেলে প্রতি গরুতে আনুমানিক এক হাজার টাকা করে চার্জ নির্ধারণ করা হতে পারে।  

সবশেষে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রাণিসম্পদের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন