১৩ বছর ধরে আদালতে দৌড়াচ্ছেন কুদ্দুস বয়াতি

১৭ মে, ২০২৬

নেত্রকোণায় নিজের কেনা জমি ফিরে পেতে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় দৌড়াচ্ছেন দেশের লোকগানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, ১৩ বছর আগে কেনা জমিটি  স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মানুষ ভুয়া দলিল বানিয়ে জমিটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়

কুদ্দুস বয়াতির তথ্য অনুযায়ী, জমির মূল কাগজপত্র এবং মালিকানা শুরু থেকেই তার নামে। প্রায় ১৩ বছর আগে কেনা এই জমির খাজনাসহ যাবতীয় নথিপত্র ডিজিটাল হালনাগাদ করা আছে। প্রায় সাত বছর আগে বয়াতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় কিছু মানুষ সুযোগ বুঝে জমিটির ওপর নজর দেয়। তারা ভুয়া দলিল তৈরি করে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করে এবং সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করে। অথচ এর আগে জমির প্রকৃত দখল ছিল বয়াতির।

জমির দলিল জালিয়াতির পর মামলা গড়ায় আদালতে, যা গত ১৩ বছর ধরে চলমান রয়েছে। ঢাকা মেইলের কাছে বয়াতি আক্ষেপ করে বলেন, ‘জমির মামলা এমন এক জটিল বিষয় দাদা-বাপ-ছেলে মরে—তবুও মামলা শেষ হয় না।’ তিনি আরও জানান, মামলার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জমির দখলদারদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করেন বলেন,  ‘তাদের সরাসরি কোনো বড় রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অসুস্থ থাকাকালীন তারা ওই জমিতে ঘর তুলে বসে পড়ে।’ 

মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, গত মাসের ২২ (এপ্রিল) তারিখে মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যে ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন সেই বাদী সম্প্রতি মারা যাওয়ায় আদালত রায় আপাতত স্থগিত রেখেছেন। কুদ্দুস বয়াতির দাবি, আদালত যদি যাবতীয় প্রমাণ দেখে মনে করেন জমির আসল মালিক তিনি, তাহলে যেন আদালত তার পক্ষে রায় দেন। জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি চান তিনি। 

এদিকে দলিল জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে দুই পক্ষকে জমিটি দখলে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যাতে নতুন করে কেউ সেখানে আসতে না পারে। কিন্তু বয়াতি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে অন্যায়ভাবে জেঁকে বসে।