১৮ মে, ২০২৬
পুলিশকে ম্যানেজ করে পাবনার ঈশ্বরদীতে রাতের আঁধারে পদ্মা নদী ও চরের ফসলি জমির মাটি লুটে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। রাতভর স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এতে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি, অন্যদিকে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চর রূপপুর এলাকায় চলছে মাটি কাটার এই মহোৎসব। রোববার (১৭ মে) বিকেলে সরেজমিনে গিয়েও দেখা যায়, নদীর পাড় কেটে স্কেভেটর দিয়ে মাটি তোলা হচ্ছে এবং তা ইটভাটায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। রাত-দিন এক করে মাটি কেটে নেয়ার প্রমাণ মিলেছে সেখানে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের তৎপরতার কারণে দিনের বেলায় মাটি কাটা বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলে এই অবৈধ কার্যক্রম। তরিকুল নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন 'এ অ্যান্ড বি' ইটভাটার পার্শ্ববর্তী স্থানে প্রতি রাতেই ৩-৪টি স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হয়। পরে ১০-১২টি ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের সাহায্যে এসব মাটি নিয়ে ইটভাটায় বিশাল স্তূপ করা হয়।
এভাবে যথেচ্ছ মাটি কাটার ফলে পদ্মা নদী তার স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে ফেলছে। নদীর চরাঞ্চলের উর্বর মাটি কেটে নেয়ায় কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে একসময় নদীপাড়ের এলাকাগুলো ভাঙনের কবলে পড়বে। পাশাপাশি ওই এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটিও চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এতে বর্ষায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখা দিতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, পুলিশকে ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে চলছে এই মাটি কাটার কার্যক্রম। প্রতিটি স্কেভেটর চালানোর জন্য প্রতি রাতে ১৩ হাজার টাকা দিতে হয়। ইটভাটার মালিক তরিকুল নিয়মিত পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই এই মাটি কাটছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে 'এ অ্যান্ড বি' ইটভাটার মালিক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মাটি কাটার প্রশ্নই ওঠে না। ভাটাই আমার না, আমি মাটি কাটব কীভাবে? আমি বাপের বড় ছেলে, তাই আমার নাম হয়। এখন আমি ঢাকায়। মাটি কাটছে কি না জানি না। আমরা ভাটার মহাজন, আমরা মাটি কিনে নিই।’
তবে তার ভাটার নিচেই নদী থেকে মাটি কাটা চলছে এমন প্রশ্নে তিনি সুর পাল্টে বলেন, ‘হ্যাঁ, ওইটা তো করতেছে, সমস্যা নাই। ওইটা পরিচিত একজনের জমি। তার কাছে বলেই কাটতেছি। সে বলছে এখন কেটে নেন, পরে আবার ভরাট করে দিয়েন।’
মাটি কাটার বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, ‘মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। রাতের আঁধারে চুরি করে কাটে। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। আপনারা নিউজ করেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।’