শিশুর হাম হলে, সুস্থ রাখতে মানতে হবে যেসব নিয়ম

১৮ মে, ২০২৬

শিশুদের মধ্যে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। অনেকেই একে সাধারণ জ্বর বা চামড়ায় ফুসকুড়ি ভাবলেও বাস্তবে এটি শিশুর শরীরে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, অপুষ্টি আছে বা টিকা সম্পূর্ণ হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

হাম হলে শিশুর জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেক সময় শিশুর খাওয়ায় অরুচি, দুর্বলতা ও অস্বস্তিও বাড়তে থাকে। এ সময় সঠিক যত্ন শিশুকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে, আবার অসাবধানতা পরিস্থিতি জটিলও করে তুলতে পারে।

হাম হলে কেন বাড়তি যত্ন জরুরি?

হামের ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে শিশুর শরীরে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক অভিভাবক শুধুমাত্র জ্বর কমানোর দিকেই গুরুত্ব দেন, কিন্তু হামের সময় শিশুর খাবার, বিশ্রাম, পরিচ্ছন্নতা ও পানিশূন্যতা রোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর হাম হলে কী করবেন?

যেসব ভুল অভিভাবকদের এড়িয়ে চলা উচিত

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, শিশুর অতিরিক্ত ঝিমিয়ে পড়া, খেতে না পারা, তীব্র ডায়রিয়া, জ্বর খুব বেড়ে যাওয়া, ঠোঁট বা শরীর নীলচে হয়ে যাওয়া-এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

হাম প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকা দিলে এই রোগের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, টিকাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

হামকে কখনোই সাধারণ রোগ ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে বেশিরভাগ শিশুই সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে কোনো জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

তথ্যসূত্র: হু, ইউনিসেফ, মায়ো ক্লিনিক