১৯ মে, ২০২৬
‘আমি ফেঁসে গেছি, কিন্তু তুমি ফেঁসে যেয়ো না’- ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এই ছোট্ট বার্তাই এখন ৩৩ বছর বয়সী তিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তার মৃত্যুকে ঘিরে সামনে আসছে মানসিক চাপ, দাম্পত্য নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগ।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় গত ১২ মে স্বামীর বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় তিশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে ঘটনাটি আ ত্মহ ত্যা হিসেবে দেখা হলেও, পরিবারের অভিযোগ ও বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নয়ডার বাসিন্দা তিশা পড়াশোনা শেষে দিল্লিতে চাকরি করতেন। মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি মডেলিং ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কাজেও যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারা বিয়ে করেন।
বিয়ের পর তিশা ভোপালে চলে যান। তবে নতুন জীবনে মানিয়ে নিতে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন বলে জানা গেছে। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে বন্ধুদের সঙ্গে একাধিক বার্তায় তিনি নিজের অস্থিরতার কথা জানান।
এক বন্ধুকে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি অনেক দুশ্চিন্তায় আছি। বিয়ে মানেই নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলা নয়।’ একই সঙ্গে অন্যদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘বিয়ের সিদ্ধান্ত ভেবে-চিন্তে নিও।’
হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিশা তার মাকেও জানান, তিনি দাম্পত্য জীবনে ‘আটকে’ আছেন এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। একাধিকবার তিনি মাকে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে পাঠানো এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘মা, আমার খুব দম বন্ধ লাগছে। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।’
পরিবারের দাবি, তিশার গর্ভধারণের পর স্বামী সমর্থ সিং তাকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। এমনকি ওই সন্তান নিজের নয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এতে তিশা মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের ভাষ্য।
তিশার মায়ের অভিযোগ, বাইরে স্বাভাবিক আচরণ করলেও ব্যক্তিগত জীবনে সমর্থ নিয়মিত তাকে অপমান ও মানসিক নির্যাতন করতেন। পাশাপাশি যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে পরিবার।
প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা মৃত্যুর আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে ভোপাল পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আ ত্মহ ত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ— সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পরিবারের আশঙ্কা, প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
সব মিলিয়ে তিশা শর্মার মৃত্যু এখন শুধু একটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়, বরং দাম্পত্য নির্যাতন, মানসিক চাপ ও যৌতুকের অভিযোগে ঘেরা এক রহস্যজনক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।