২০ মে, ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় আহত হন আরও এক স্কুল শিক্ষিকা। এ সময় স্কুলে থাকা অবস্থায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে স্ট্রোক করে মারা যায় এক শিক্ষার্থী।
নিহত স্কুল শিক্ষিকার নাম উম্মে কুলসুম (৪৮)। তিনি বদলগাছী লাবণ্যপ্রভা কমিউনিটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম তাসনিম আরা (১৩)। সে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের আবুল কালাম চৌধুরীর মেয়ে। আহত মমতাজ খাতুন (৫০) একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তিনি বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম ও মমতাজ খাতুন বোর্ড পরীক্ষার খাতা নেওয়ার জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার উদ্দেশে বের হন। বেলা একটার দিকে তারা বদলগাছী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মহাদেবপুর উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথে বদলগাছী-মাতাজি সড়কের চাকরাইল মোড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ধান মাড়াই মেশিনের ভ্রাম্যমাণ গাড়ির সঙ্গে তাদের অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার দুই শিক্ষিকা গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক উম্মে কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম আরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তৎক্ষণাৎ শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামিম ইয়াসার বলেন, শিক্ষিকা উম্মে কুলসুমকে বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। শিক্ষার্থী তাসনিম আরাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে। ধারণা করছি, আকস্মিক তীব্র মানসিক ধাক্কায় মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল ব্যহত হওয়ায় বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
লাবণ্যপ্রভা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম ও শিক্ষার্থী তাসনিম আরার মৃত্যুতে স্কুলের সবার মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ধান মাড়াই মেশিনের ভ্রাম্যমাণ গাড়ি ও অটোরিকশা জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।