২০ মে, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে অপহৃত দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মানব পাচার চক্রের তিন সদস্যকে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) পিবিআই জানিয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাদের। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের তত্ত্বাবধানে এবং উপপরিদর্শক মো. ফরহাদ বিন করিমের নেতৃত্বে বিশেষ একটি দল পরিচালনা করে এ অভিযান।
অভিযানে গতকাল ১৮ মে গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মামলার মূল আসামী এমদাদুল হক রাব্বানীকে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় নুর-ই-নাসরিনকে। এ সময় উদ্ধার করা হয় তার হেফাজত থেকে ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে।
এর আগে ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে শিশু দুটির বাবা মেজবাহ উদ্দিনকেও।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয় সাত বছর আগে। তাদের সংসারে রয়েছে আরিয়ান ও জুবায়েত নামে দুই সন্তান। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন। একই সঙ্গে স্ত্রীর কাছে টাকার জন্য চাপ দিতেন। টাকা না পেলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন।
গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় পরিকল্পিতভাবে দুই সন্তানকে পূর্বপরিচিত এমদাদুল হক রাব্বানীর সহায়তায় বাসা থেকে নিয়ে যান মেজবাহ উদ্দিন। পরে শিশু দুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনার তথ্য জানতে পেরে থানায় অভিযোগ করেন তাদের মা।
পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এমদাদুল হক রাব্বানীর বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার তথ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ ও পাচারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে একাধিক শিশুপাচারের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তদন্তে আরও জানা গেছে, মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বাবা মেজবাহ উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে একাধিক বিয়ে এবং অর্থের বিনিময়ে সন্তান বিক্রির।
গ্রেফতার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মেজবাহ উদ্দিন।
পিবিআই জানিয়েছে, চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং আরও পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে চলছে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম।