রাজশাহীতে ২ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৯

২১ মে, ২০২৬

 

রাজশাহীতে পৃথক দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ধারাবাহিক অভিযান, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তৎপরতায় দুটি ঘটনায় জড়িত ৯ আসামিকে গ্রেফতার করা করেছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, ব্যাটারি ও বিভিন্ন আলামত।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে আরএমপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র গাজিউর রহমান এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায় চলতি বছরের গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৭টার দিকে এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে খোঁজাপুর এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা গোলাম মোস্তফাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী মোসা নাজেরা বেগম বাদি হয়ে মতিহার থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করেড়

 

পুলিশ আরও জানায়, এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমাস আল রাজী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি হাসিবুল ইসলামকে ডাঁশমারী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায় নিহত গোলাম মোস্তফার সঙ্গে আসামিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও একাধিক মামলা-মোকদ্দমা চলমান ছিল। সেই পূর্বশত্রুতার জের ধরেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

এদিকে, দামকুড়া থানার আলোচিত ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্যও উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। নিহত মামুনুর রশিদ গত ২ মে বিকেলে ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ জোতরাবোন উত্তরপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা মামুনুর রশিদকে হত্যা করে।

পরে তার মরদেহ ফেলে রেখে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ডিবি, আরএমপির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহ্ আলী মিয়া ও তার টিম গত ১৫ মে ছিনতাইকরা অটোরিকশা উদ্ধারসহ চার আসামিকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ ও ২০ মে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে মূল পরিকল্পনাকারীসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, চারটি ব্যাটারি ও ব্যাটারি খোলার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

আরএমপি জানায়, দুটি মামলাতেই গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।