২১ মে, ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অনীহা, দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবং আইনি জট কাটিয়ে অবশেষে ভারতীয় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর হাতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও বিওপি স্থাপনের জন্য জমি হস্তান্তর করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের ১০ দিনের মধ্যে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু করল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার।
বুধবার (২০ মে) বিকালে সচিবালয় নবান্নের সভাঘরে আয়োজিত এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম দফায় বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণ এবং কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার জন্য নির্ধারিত ২৭ কিলোমিটার জমি সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করে দেয়া হল। সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে মূলত দুই ধরণের জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ৯টি জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মোট ৩২ একর সরকারি খাস জমি যা বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রয়েছে ব্যক্তিগত বা কেনা জমি। ৫টি জেলায় মোট ৪৩ একর ব্যক্তিগত জমি কেনা হয়েছে। এই ২৭ কিলোমিটার সরকারি ও ব্যক্তিগত জমির দাম সম্পূর্ণ বহন করবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর।
এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এদিন আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। তার অভিযোগ, বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে রাজ্যের কাছে আগেই জমি চেয়েছিল বিএসএফ। কিন্তু তোষণের রাজনীতির জন্য তা দেয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন তদানিন্তন রাজ্য সরকারের মুখ্যসচিবের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন, চিঠি লিখেছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্তমান সরকার সেই জট কাটালো।
শুভেন্দু বলেন, আজকের দিনটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দিন পর বিএসএফ, কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার এক হয়ে হাত মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার বর্ডার নিয়ে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার কাজ করছে। একটি দেশাত্মবোধক সরকার অবশেষে এই কাজ সম্পন্ন করতে পারল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটা সবেমাত্র সূচনা। আমাদের দক্ষ আধিকারিকেরা কিছু দিনের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করবেন এবং বিএসএফকে সবরকম সাহায্য করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেয়ার জন্য একটি চিঠি এক বছরের বেশি আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ রাজ্যকে পাঠানো হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকার একদিকে শরণার্থীদের সিএএ দেয়ার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে এই গুরুত্বপূর্ণ আইন আগের সরকার কাজে লাগায়নি। আজ থেকে আমরা এই আইন কার্যকর করলাম।