২২ মে, ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নরওয়ে সফরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।শীর্ষ নরওয়েজিয়ান দৈনিক আফতেনপোস্টেন মোদীকে ‘সাপুড়ে’ হিসেবে দেখিয়ে একটি কার্টুন প্রকাশ করার পর ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভারতীয় এটিকে ‘বর্ণবাদী’ ও ‘ভারতবিদ্বেষী স্টেরিওটাইপ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
জানা গেছে, মোদীর নরওয়ে সফরের সময়ই কার্টুনটি প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের শিরোনামের অনুবাদ করলে দাঁড়ায়- ‘চতুর ও খানিকটা বিরক্তিকর একজন মানুষ’। সেখানে মোদীকে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ‘সাপুড়ে’র আদলে দেখানো হয়। কার্টুনে তার হাতে থাকা একটি জ্বালানি পাম্পের পাইপকে সাপের আকারে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
এদিকে, মোদীর এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই দেখা হচ্ছিল। কারণ ৪৩ বছরের মধ্যে এটিই ছিল নরওয়েতে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। সফরে ভারত ও নরওয়ে ‘গ্রিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ জোরদারের ঘোষণা দেয়। মহাকাশ, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও আর্কটিক সহযোগিতাসহ একাধিক বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতাও হয়।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্তোরের সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি, গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের সময় এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
কেন শুরু হলো বিতর্ক?
কার্টুনটি প্রকাশের পর ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচকদের দাবি, ‘সাপুড়ে ভারত’ ধারণাটি পশ্চিমা বিশ্বের পুরোনো ঔপনিবেশিক স্টেরিওটাইপ, যা দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে পশ্চাৎপদ ও রহস্যময় দেশ হিসেবে তুলে ধরতে ব্যবহৃত হয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের নামে একটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে অবমাননা করা কতটা গ্রহণযোগ্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর একাংশ দাবি করেছে, কার্টুনটি শুধু মোদীকে নয়, পুরো ভারতকেই অপমান করেছে।
সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে ভারতের গণমাধ্যম স্বাধীনতার প্রশ্ন
মোদীর নরওয়ে সফরের সময় সংবাদ সম্মেলনে ভারতের গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক হেলে লিং স্বেনসেন মোদীকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি ভারতে সংবাদমাধ্যমের সামনে খুব কম প্রশ্ন নেন। এ নিয়েও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নরওয়েজিয়ান গণমাধ্যমের উত্তেজনা তৈরি হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, আন্তর্জাতিক অনেক সমালোচক ভারতের বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝেন না ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভুল ধারণা তৈরি করছেন।
অন্যদিকে নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক হেলে লিং স্বেনসেন পরে বলেন, বিশ্বনেতাদের কঠিন প্রশ্ন করা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক দায়িত্ব।