ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা মাদ্রাসাছাত্রী, শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

২২ মে, ২০২৬

ধর্ষণে শিশু শিক্ষার্থীকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে নেত্রকোনার মদনের সেই মাদ্রাসার পরিচালক শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত আমানউল্লাহ সাগরের ডিএনএ নমুনা গত ১৭ মে ঢাকার সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) অফিসে প্রদান করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান।  

বিষয়টি নিশ্চিত করে নেত্রকোনা সদরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ জানান, আসামি জেলহাজতে রয়েছেন। আগামী ২৮ জুন এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

তিনি জানান, আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিলে গত ১৬ মে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে ময়মনসিংহের র‌্যাব ১৪ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিকে ৬ মে (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আটক করে।  

পুলিশ, মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২ সালে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মাদ্রাসায় আশপাশ এলাকার বিভিন্ন দরিদ্র পরিবারের মেয়ে শিশুদের পড়তে যায়।

তেমনি নানির কাছে থাকা বাবাহীন মা গৃহ পরিচারিকার কাজ করায় শিশুটিও মাদ্রাসায় পড়তে যায়। মাদ্রাসার পরিচালক শিক্ষক গত বছরের নভেম্বর মাসে একদিন ওই ক্লাসরুমের ভেতরেই পর্দা দিয়ে পেতে রাখা বিছানায় শিশুকে যৌন নির্যাতন করে। পরে হাতে ৫০ টাকা দিয়ে কিছু কিনে খাওয়ার কথা বলে প্রাণ নাশেরও ভয় দেখায়। এভাবে প্রায় সময় শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

এক পর্যায়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুটি মাদ্রসাায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি শিশুর বেশ শারিরীক পরিবর্তন দেখে মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তাকে মদন উপজেলা হাসপাতাল রোডের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের চেম্বারে নিয়ে গেলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।  

এদিকে শিশুর পরিবারের সাথে বিষয়টি সমঝোতা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে গত ১৮ এপ্রিল শিক্ষক মাদ্রাসা বন্ধ করে ছুটি দেখান। এই ঘটনায় ২৩ এপ্রিল মেয়েটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পরে সাগরের ভাই আদালত থেকে জামিন নেন এবং পরিবারটিকে মামলা তুলে নেয়ায় চাপ দেন। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকেন ওই শিক্ষক। গত ৫ মে পলাতক অবস্থায় আসামী সাগর ফেইসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় মেয়েটির পরিবারকে নানা ধরনের কথা বলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। চিকিৎসককেও দেন হুমকি। এই ঘটনায় স্থানীয়সহ সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে র‌্যাব পরদিন (৬ মে) তাকে গৌরিপুর থেকে আটক করে। ওইদিন সন্ধ্যায়ই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত ১০ মে বিকেলে আসামিকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়।