২৩ মে, ২০২৬
এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের মাঝারি পাল্লার ‘টাইফোন’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের তীব্র বিরোধিতা করেছে গণচীন।একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও টোকিওকে তাদের ‘ভুল কাজ’ সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
শুক্রবার (২২ মে) নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এ মন্তব্য করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে সিজিটিএন।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাপানে যৌথ সামরিক মহড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের টাইফোন মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থা হাজার হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। মহড়া শেষে এটি জাপানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হবে। এর আগে ২০২৪ সালে ফিলিপাইনে টাইফোন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গুও জিয়াকুন বলেন, ‘টাইফোন’ একটি কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্র। এসব অস্ত্র মোতায়েন এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থের ক্ষতি করবে। পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক কৌশলগত নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং সামরিক সংঘাত ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না।
মধ্যপাল্লার ‘টাইফোন’ ক্ষেপণাস্ত্র:
টাইফোন হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি স্থলভিত্তিক মাঝারি-পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (এসএমআরএফ)। এটি কনটেইনার-মাউন্টেড মার্ক ৪১ (এমকে-৪১) ভার্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেম ব্যবহার করে। এটি মূলত দূরপাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্র এবং স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যকার সক্ষমতার ব্যবধান দূর করতে তৈরি করা হয়েছে।
টাইফোন ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:
এতে বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ (এসএম-৬) উল্লেখযোগ্য। টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মাধ্যমে এটি সর্বোচ্চ প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দূরের স্থল বা সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এসএম-৬ এর মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরের আকাশ বা সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা যায়।
অবস্থান ও মোতায়েন:
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি ফিলিপাইন এবং জাপানে মোতায়েন করা হয়েছে। এটি খুব দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায়।
চীনা মুখপাত্রের ভাষ্য মতে, এই পদক্ষেপ পুনরায় জাপানের দ্রুত সামরিকীকরণের আরেকটি উদাহরণ। বিভিন্ন ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, জাপানের ডানপন্থি শক্তিগুলো দেশটির সামরিক সক্ষমতার সার্বিক পুনর্গঠন চায় এবং তথাকথিত দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তার মতে, এটি মূলত জাপানের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইনের নীতিমালাকে দুর্বল করবে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করবে।
এছাড়া জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির খসড়া প্রস্তাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে জাপানের ‘নব্য সামরিকতাবাদ’ সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানান গুও জিয়াকুন।
জিয়াকুন বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন।