২৪ মে, ২০২৬
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার আড়ত নাটোরে অবস্থিত। কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে হঠাৎ করে লবণের দাম বেড়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে অনিশ্চিয়তা ও হতাশায় দিন কাটছে ব্যবসায়ীদের।
আড়ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, চামড়া সংরক্ষণে প্রধান উপকরণই হচ্ছে লবণ। হঠাৎ লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন তারা। লবণের দাম কমিয়ে আনা না হলে চামড়া সংরক্ষণে খরচ বেড়ে যাবে। ফলে চামড়া কিনে লোকসানে পড়তে হবে তাদের। অন্যদিকে, ছাগলের চামড়া পাচার হওয়ার শঙ্কা দেখছেন ব্যবসায়ীরা। চামড়া পাচাররোধ ও লবণের দাম কমাতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
হঠাৎ লবণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ৭০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ টাকায়, এতে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ১৫ টাকা। গত বছর প্রতি বস্তা লবণের দাম ছিল ৯০০ টাকা। এ বছর কেজি প্রতি ৩ টাকা বেড়ে বস্তায় বেড়েছে ২৫০ টাকা।
একটি ৫ মণের ষাঁড় গরুর সাধারণত চামড়া হয় ২২ বর্গফিট। আড়ত ব্যবসায়ীরা এই কাঁচা চামড়া ৪০ টাকা বর্গফিটে ক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রয় করেন। প্রতি পিস চামড়া সংরক্ষণে লবণ প্রয়োজন হয় ১০ থেকে ১২ কেজি। আর প্রতি পিস চামড়া ঢাকায় পৌঁছাতে পরিবহন ও শ্রমিকে খরচ হয় ৫০ টাকা। ২২ ফিটের একটি চামড়ায় লবণজাত, পরিবহন, শ্রমিক খরচ মিলে ঢাকায় পৌঁছাতে খরচ দাড়ায় ১০৭৫ টাকা। তবে লবনের দাম বৃদ্ধিতে প্রতি পিসে এ বছর ৩৬ টাকার লবণ বেশি লাগবে।
জানা গেছে, চলতি ঈদ মৌসুমে বৃহত্তম এই আড়তে ১১ থেকে ১২ লাখ পিস কোরবানির চামড়া বেচাকেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মূল্য আনুমানিক প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। নাটোরের ৬০-৭০টি আড়তে চামড়া বেচাকেনা হয়। এবার গরু-মহিষ মিলে ৪ থেকে ৫ লাখ পিস চামড়া কেনাবেচা হবে। খাসি-ভেড়া মিলে ৭ থেকে ৮ লাখ পিস লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাহিরে প্রতি বর্গফিট গরুর চামড়া ৫৭-৬২ টাকা, খাসি ২০-২৫ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।
একসময় নাটোরের আড়তে উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের ৩০ থেকে ৩২ জেলার কাঁচা চামড়া আসতো। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তাদের বকেয়ার টাকা না পাওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এ আড়ত থেকে। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০টি জেলার কাঁচা চামড়া আসে নাটোরের চকবৈদ্যনাথ আড়তে।
ঈদের দিন বিকেল থেকে আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে আসতে শুরু করে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া। এরপর আড়তগুলো চলে চামড়া লবণজাতের প্রক্রিয়া। এ কাজের সঙ্গে শত শত যুবক সরাসরি সম্পৃক্ত।
নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, এবছর চামড়া কেনা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। টাকা না পেয়ে চামড়া কেনা নিয়ে দুচিন্তায় ব্যবসায়ীরা। নতুন করে লবণের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা পড়েছে আরেক বিপদে। হঠাৎ লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় লবণ কিনতে পারছেন না। সরকারের কাছে জোর দাবি, চামড়া ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে লবণের দাম শিথিল করা উচিত।
নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন জানান, জেলায় ১২টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে। এ বছর জেলায় ২০ হাজার ৩৭৪ খামারে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭টি কোরবানি যোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। যার মধ্যে গরু একলাখ ১৮ হাজার ৫০৫টি, মহিষ ২ হাজার ৫২০টি, ছাগল ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৭১টি, ভেড়া ৩৪ হাজার ৩৮টি আছে৷ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে দুই লাখ ৮২৬টি পশু।
নাটোরে পুলিশ সুপার শরিফুল হক জানান, নাটোর জেলা যেহেতু সীমান্তবর্তী এলাকা নয়, এখান থেকে চামড়া পাচার হওয়ার সম্ভবনা নেই। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনিটরিং এ থাকবে।