২৫ মে, ২০২৬
ক্ষমতা হারানোর মাত্র ২০ দিনের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গ। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ খ্যাত ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত ফলতা বিধানসভার আসনে পুনর্নির্বাচনে বড় জয় পেল বিজেপি।
প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ২১ ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডা। গত লোকসভা ফলতা বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের লিড ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ভোটের। পুনর্নির্বাচনে সেখানে তৃণমূলের অবস্থান চার নম্বরে। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে দলটির প্রার্থীর।
২৯ এপ্রিল রাজ্যের দ্বিতীয় দফায় যে ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল ফলতা আসন। এই আসনের ২৮৫ টি বুথের অধিকাংশ বুথেই কারচুপি, ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছিল জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন পুনঃনির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। ২১ মে এই আসনটিতে ভোট নেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেই নির্বাচনে লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নেন জাহাঙ্গীর খান। কার্যত সেই সময় থেকেই অন্তরালে চলে যান তিনি।
২১ মে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ৩৫টি কোম্পানির কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে এই পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোনো রকম অশান্তি ছাড়া কড়া প্রহরায় ভোট হওয়ায় সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বুথে আসেন। ফলতার মোট ২ লাখ ৩৬ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশেরও বেশি মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
রবিবার সকাল ৮ টা থেকে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় ফলতার ভোট গণনা। পোস্টাল ব্যালট গণনার কাজ। এরপর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) খুলে গণনা শুরু হয়। তাতে প্রথম রাউন্ড থেকেই এগিয়ে যেতে থাকেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডা।
প্রত্যেকটি রাউন্ড শেষে তার জয়ের ব্যবধান বাড়তে থাকে। দেবাংশু পন্ডা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট। ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভু নাথ কুড়মী, ১০ হাজার ৮৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে আব্দুর রজ্জাক মোল্লা এবং ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। এই নির্বাচনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো রাজ্যের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়া ও জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া এবং বামেদের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা।
তৃণমূলের ক্ষমতার দাপট কমতেই দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে বামেরা। যদিও বিজেপির ৬৪ হাজার ভোটের বিপরীতে সিপিএমের ২৫ হাজার ভোট ব্যবধানের দিক থেকে অনেকখানি, তবুও কংগ্রেস বা তৃণমূলকে বহু পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখা বর্তমান পরিস্থিতিতে সিপিএমের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের খবর নিশ্চিত হতেই দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। নিজেদের মধ্যে আবির খেলে এবং মিষ্টিমুখ করে সেলিব্রেশন করতে থাকেন।
ফলতা আসনে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হওয়ায় রাজ্যে তাদের আসন সংখ্যা বাড়ল। ৪ মে রাজ্যটির যে ২৯৩ আসনের ফলাফল ঘোষিত হয়, তাতে বিজেপি জয় পায় ২০৭ আসনে। এই দিনের জয় ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপির আসন বেড়ে দাঁড়ালো ২০৮ এ, তৃণমূল ৮০ আসন, কংগ্রেস ২ আসন, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২ আসন, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) ১ আসন এবং সিপিআইএম ১ আসনে জয় পেয়েছিল।
জয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার কটাক্ষ, ‘কুখ্যাত ডায়মন্ড হারবার মডেল পরিণত হলো তৃণমূলের হার-বার মডেলে।’
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ বলেছেন, “ফলতায় যে নির্বাচনী ফলাফল সামনে আসছে তা দুর্ভাগ্যজনক। ওখানে কোন নির্বাচনই হয়নি। তৃণমূলের প্রার্থী যেভাবে নির্বাচনের আগে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালো এটা একেবারেই ঠিক হয়নি। তাছাড়া দলের যারা ভোট মেশিনারি- তাদেরকে প্রত্যেককে আটক করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে ফলাফল যেটা হওয়ার কথা ছিল, সেটাই হয়েছে।”