২৬ মে, ২০২৬
কুরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই বাগেরহাটের ফকিরহাট বাজারে জমে উঠেছে চুইঝালের বেচাকেনা। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এ ঝাঁঝালো মসলা ছাড়া যেন ঈদের গরুর মাংস রান্না অপূর্ণ থেকে যায়। তাই ঈদকে সামনে রেখে এখন বাজারজুড়ে বাড়ছে চুইঝালের চাহিদা, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দামও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফকিরহাট বাজারের চুইঝালের দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি খুলনা, যশোর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর ও নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরাও ভিড় করছেন এ বাজারে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ফকিরহাট বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মণ চুইঝাল কেনাবেচা হচ্ছে। সাধারণ সময়ে প্রতি কেজি চুইঝাল ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন আকার ও মানভেদে দাম উঠেছে ৬০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
দক্ষিণাঞ্চলে চুইঝালের অন্যতম বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত ফকিরহাট বাজার। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এখানে চুইঝাল নিয়ে আসেন। পরে এখান থেকে তা দেশের নানা অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
ফকিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শেখ, মামুন শেখ ও ইমন সরদার বলেন, ঈদ এলেই চুইঝালের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় এবার দামও কিছুটা বেশি। বিশেষ করে দেশীয় চুইঝালের কদর বেশি হওয়ায় সেটির দামও বেশি রাখা হচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী মজিদ শেখ জানান, তিনি দেশের উত্তরাঞ্চল থেকেও চুইঝাল সংগ্রহ করে ফকিরহাট মোকামে এনে বিক্রি করেন। এখান থেকে আবার বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে কিনে নিয়ে যান।
মাদারীপুরের ব্যবসায়ী জয়নাল মিয়া বলেন, বাগেরহাটের চুইঝালের আলাদা সুনাম আছে। এখানকার চুইঝালে ঝাঁজ, ঘ্রাণ ও স্বাদ বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। এজন্য তিনি এখানে চুইঝাল কিনতে এসেছেন।
স্থানীয়দের মতে, চুইঝাল শুধু একটি মসলা নয়, এ অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। বিশেষ করে গরুর মাংস রান্নায় এটি আলাদা স্বাদ ও ঘ্রাণ যোগ করে। দক্ষিণাঞ্চলের বহু পরিবারে ঈদের রান্না চুইঝাল ছাড়া কল্পনাই করা যায় না।
ফকিরহাটের বাসিন্দা সোহেল শেখ বলেন, চুইঝালের মাংস এখন আমাদের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বিয়ে, দাওয়াত কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান; সবখানেই চুইঝালের মাংসের আলাদা কদর রয়েছে।
ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চুইঝাল চাষের জন্য ফকিরহাটে চারটি গ্রাম এখন ‘চুইঝালের গ্রাম’ নামে পরিচিত। চুইঝাল শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, এটি ঔষধিগুণসম্পন্ন মসলাও। গ্যাসের সমস্যা কমানো, হজমে সহায়তা ও রুচি বাড়াতেও এটি উপকারী।
তিনি বলেন, উপজেলায় বর্তমানে ১০ হেক্টর জমিতে চুইঝালের আবাদ হয়েছে। চাহিদা ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় দিন দিন এর চাষও বাড়ছে।