২৬ মে, ২০২৬
প্রায় তিন মাস ধরে চলা কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পর ইরানে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ৮৭ দিনের এই কার্যত অচলাবস্থার কারণে দেশটিতে ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট একটি কমিটির বৈঠকে ৯ জন পক্ষে এবং ৩ জন বিপক্ষে ভোট দেন।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর প্রথম বড় আকারে ইন্টারনেট সীমাবদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। ২৩ জানুয়ারি কিছুটা শিথিল করা হলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি—যেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়—সেদিনই আবার কঠোরভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, এই সময় ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশে নেমে আসে, যেখানে আগে তা ছিল ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ।
এই বন্ধে দেশের দৈনন্দিন জীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। মানুষ স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ হারায়, ছোট ব্যবসা ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করা ফ্রিল্যান্সারদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ, বিক্ষোভ ও ইন্টারনেট বন্ধ—সব মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি মানুষ কাজ হারিয়েছেন।
এ সময় ‘ইন্টারনেট প্রো’ নামে সীমিত অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সংযোগ চালু করা হয়, যা কেবল নির্বাচিত কিছু মানুষ ব্যবহার করতে পারতেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ে।
তবে সরকার এখনো জানায়নি, পুরো দেশে কবে স্বাভাবিক ইন্টারনেট ফিরবে এবং বিদেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে কি না।