বাণিজ্য সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ টাস্কফোর্স, কাস্টমসে ১০ টিম

২৭ মে, ২০২৬

ঈদের টানা ছুটিতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে সচল এবং জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কাস্টমসও গঠন করেছে ১০টি বিশেষ টিম।  

বন্দর, কাস্টমস, শিপিং, ব্যাংক, সিঅ্যান্ডএফসহ সংশ্লিষ্ট ২৬টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলেই তৈরি হয় জটিলতা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ঈদের ছুটিতে জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন গড়ে আট হাজার ৭০০ টিইইউস কনটেইনার ওঠানামা হলেও দৈনিক খালাস বা ডেলিভারি হচ্ছে প্রায় সাড়ে চার হাজার টিইইউস কনটেইনার। 

তবে ঈদের ছুটিতে কনটেইনার ওঠানামা স্বাভাবিক থাকলেও পণ্য খালাস বা ডেলিভারি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা।

কারণ আমদানি করা কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় না পৌঁছলে এবং প্রস্তুতকৃত পোশাক রপ্তানি করতে না পারলে, উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।

এদিকে ঈদের ঠিক আগে ২১টি বেসরকারি অফডকে (আইসিডি) আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

স্বাভাবিক সময়ে আইসিডিগুলোতে প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার রপ্তানি কনটেইনার ও আড়াই হাজার আমদানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও ঈদের আগমুহূর্তে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার রপ্তানি ও সাড়ে তিন হাজার আমদানি কনটেইনারে। 

বেসরকারি অফডক অ্যাসোসিয়েশন ‘বিকডা’র দাবি, ঈদের আগে শিপমেন্টের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

সংগঠনের মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, ঈদুল আজহার পর দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ঈদের পরের কাজগুলোও আগেভাগে সম্পন্ন করে রাখছেন। এ কারণেই চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে।

ঈদের ছুটির দিনগুলোতে বাণিজ্য সচল রাখতে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছে, সেগুলো মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জোনে কাজ করবে। 

এগুলো হলো- বহির্নোঙরে বাল্ক পণ্য খালাস তদারকি, জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সচল রাখা, বন্দরের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

বিজিএমই’র পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব, তারা যেন ঈদের ছুটিকে সাধারণ ছুটির মতো বিবেচনা করে বন্দর বন্ধ না রাখেন। রপ্তানি ও আমদানির কার্যক্রমকে যেন পুরোদমে অব্যাহত থাকে। পণ্য সময়মতো ইনহাউস করতে না পারলে পোশাক উৎপাদনে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ জানান, ঈদের সময়ে দুটি টাস্কফোর্স সরাসরি পণ্য খালাস ও জেটি-ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এ ছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে আরো একটি পৃথক টাস্কফোর্স।  

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, শুল্কায়ন ও এক্সামিনেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে থাকবেন।