পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলাতেই কি নিশানায় গায়ক কবীর সুমন?

২৮ মে, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধী শিবিরের বুদ্ধিজীবী-শিল্পীদের ওপর শুরু হয়েছে এক ধরণের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপ। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের এই আবহে এবার আইনি তোপের মুখে পড়েছেন কট্টর বিজেপি-বিরোধী ও স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী তথা সাবেক সংসদ সদস্য কবীর সুমন।  

দীর্ঘদিনের পুরনো এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কলকাতার নেতাজিনগর থানায় ‘জাতির কথা’ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বর্ষীয়ান গায়কের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত এবং নারীদের অবমাননার অভিযোগ এনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মেরুকরণের এই আবহে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।

অভিযোগকারী সংগঠনের দাবি, কবীর সুমনের বিভিন্ন মন্তব্য ও ভাষা বাঙালি সংস্কৃতি, নারী সমাজ এবং সনাতন ধর্মের অনুসারীদের জন্য আপত্তিকর। সংগঠনের প্রতিনিধিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একজন বুদ্ধিজীবী হয়েও তিনি যেভাবে নারীদের প্রতি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনার জেরে গায়ককে আইনি প্রক্রিয়ায় জেলে পাঠানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। 

তবে কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর শুরু হলেও সুমনের বিরুদ্ধে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করা হয়নি। মূলত তিন বছর আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া তার কিছু বিরূপ মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগে এই অভিযোগটি সামনে আনা হয়েছে।

কবীর সুমন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সবসময়ই স্পষ্টভাষী এবং গেরুয়া শিবিরের কট্টর বিরোধী হিসেবে সুপরিচিত। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভার সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উদয়ের পর পুরনো ইতিহাস ঘেঁটে সুমনকে কোণঠাসা করার এই চেষ্টা আসলে ভিন্নমতাবলম্বীদের মুখ বন্ধ করারই একটি কৌশল।