২৮ মে, ২০২৬
মায়ের হাতের সেমাই, নতুন জামা পরে বাবার সঙ্গে নামাজ পড়তে যাওয়া, সালামি নেওয়া— ছেলেবেলার ঈদের এই স্মৃতিগুলো সবসময়-ই রঙিন। তবে প্রখ্যাত অভিনেতা টেলি সামদপুত্র দিগন্ত সামাদের বেলায় তা খানিক আলাদা। বাবাকে ঈদের দিন খুব একটা পেতেন না তিনি।
ঢাকা মেইলকে দিগন্ত বলেন, ‘ঈদের দিন সবাই বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকবে, মজা করবে— এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি ঈদের দিনগুলোতে বাবাকে খুব কম পেতাম। অধিকাংশ ঈদে তার শো থাকত। দেখা যেত ঢাকার বাইরে চলে যেতেন। সেখানেই ঈদ করতেন।’
ঈদের সেমাই, খাসির মাংস ছিল টেলি সামাদের প্রিয়। উল্লেখ করে বলেন, ‘‘বাবা খাসির মাংস আর আমার মায়ের হাতের সেমাই খুব পছন্দ করতেন। যেখানে থাকতেন ফোন করে বলতেন, ‘আমার জন্য সেমাই রেখ। মাংস সব শেষ করো না। দুই-তিন দিন পর এসে খাব।’ এমন না যে বাবা এলে রান্না হতো না। কিন্তু ঈদের খাবারটা খেতে চাইতেন। বলতেন, ‘ওই রান্নাটা একটু রেখো। বাসি হোক, সমস্যা নেই।’ কারণ ওটার মধ্যে কোরবানির একটা ব্যাপার থাকত। যখন বাসায় থাকতেন তখন অনেক মজা করতেন। ওনার জন্য সেমাই, খাসির মাংস সুন্দর করে রান্না করা হতো। জমিয়ে খেতেন। হাড় খেতে খুব ভালোবাসতেন। দাতে ব্যাথা থাকলেও খেতেন।’’
বাবার থেকে সালামি পাওয়ার অভাব এখনও ভোগায় দিগন্তকে। বললেন, ‘আমাকে টাকা দিয়ে বলতেন, এটা তোমার ঈদের বকশিশ। যাও ঘুরে আসো। এগুলো খুব মিস করি। এখনও ঈদ এলে মনে হয় বাবা শোয়ে গেছেন। হয়তো দুই-তিন দিন পর আসবেন। অপেক্ষায় থাকি। উনি এলে সালামি নেব।’
তবে শেষের দিনগুলোতে বাসায় ঈদ কাটাতেন অভিনেতা। ছেলের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন মজার সব অভিজ্ঞতা। সামাদপুত্র বলেন, ‘শেষের দিনগুলোতে বাবার শরীর ভেঙে পড়েছিল। বাসায়ই থাকতেন। তখন মজার মজার গল্প বলতেন। গরুর হাটে ওনার সঙ্গে কী কী হয়েছিল, গরু নাকি পেছন থেকে গুতো মেরেছিল! এগুলো কোরবানি ঈদের নাটকের শুটিংয়ের গল্প। পুরো হাটের মধ্যে শুটিং হয়েছিল। সেসব শোনাতেন।’
বড়বেলায়ও সালামি নিতে ভুলতেন না দিগন্ত। দিতেন বাবাকেও। তার কথায়, ‘বড় হয়েও ঈদের দিন বাবার সঙ্গে ছেলেমানুষি করতাম। পায়ে ধরে বলতাম, বকশিশ দাও। উনি আমাকে দিতেন। আমি আবার ওনাকে দিতাম। বলতাম এবার আমি তোমাকে দেব। এভাবে দুজন মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতাম।’
দিগন্ত সামাদ একজন সংগীতশিল্পী। নিজের একটি ব্যান্ড রয়েছে। কণ্ঠ দিয়েছেন সিনেমার গানে। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মালিক’ সিনেমার টাইটেল ট্র্যাক গেয়েছেন তিনি।