২৯ মে, ২০২৬
সুইজারল্যান্ডের উইন্টারথার ট্রেন স্টেশনে ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।প্রাথমিক তদন্তের পর এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সুইস প্রশাসন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘উইন্টারথারে আজ সকালের এই সন্ত্রাসী হামলায় আমি স্তম্ভিত। এই ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক সুইস নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ আরো জানায়, হামলার কয়েক দিন আগে ওই ব্যক্তি নিজেই থানায় গিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বললে তাকে একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
জুরিখ্যান্টনের নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক মারিও ফেহর এবং জুরিখ পুলিশ প্রধান মারিয়াস ওয়েইরম্যান এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী ওই এলাকারই বাসিন্দা। ২০১৫ সাল থেকেই উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর কারণে সে পুলিশের নজরদারিতে ছিল। ঘটনাস্থলের আলামত থেকে এটি স্পষ্ট যে, হামলার পেছনে চরমপন্থী ও কট্টরপন্থী মতাদর্শ কাজ করেছে।
অন্য এক ট্যাক্সিচালক জানান, আন্ডারপাসের ভেতর ওই ব্যক্তি উন্মত্তের মতো ছুরি হাতে ঘুরছিলেন এবং সামনে যাকে পাচ্ছিলেন তাকেই আঘাত করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় আহত ৩ জনই সুইজারল্যান্ডের নাগরিক।
তবে বুধবার চিকিৎসকরা তাকে ‘ঝুঁকিমুক্ত’ বলে ছাড়পত্র দিলে সে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
স্টেশনসংলগ্ন একটি কার্যালয়ে কর্মরত এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে হামলাকারী ব্যক্তিটি চিৎকার করে এবং আকস্মিকভাবে মানুষের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে সময় স্টেশনে থাকা একদল শিশু শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে তাদের শিক্ষককে ঢাল হিসেবে সামনে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখা যায় ।
অন্য এক ট্যাক্সিচালক জানান, আন্ডারপাসের ভেতর ওই ব্যক্তি উন্মত্তের মতো ছুরি হাতে ঘুরছিলেন এবং সামনে যাকে পাচ্ছিলেন তাকেই আঘাত করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় আহত ৩ জনই সুইজারল্যান্ডের নাগরিক।
তাদের বয়স যথাক্রমে ২৮, ৪৩ ও ৫২ বছর। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তি উরুতে গুরুতর ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়ায় তাকে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি এখনো চিকিৎসাধীন।
২৮ ও ৪৩ বছর বয়সী ব্যক্তি যথাক্রমে পা ও ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন। তবে তাদের আঘাত আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় ইতিমধ্যেই হাসপাতাল ছেড়েছেন বা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটনার পর থেকে উইন্টারথার ট্রেনস্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এই হামলার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সুইস কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।