৩০ মে, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার বক্তব্যটি আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝানো হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে -
সাম্প্রতিক সময়ে “SameerScane” নামের একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার কিছু মন্তব্য নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, আমার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করছি।
প্রথমত, এগুলো সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত; এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়। আমি মূলত বলতে চেয়েছি যে, সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার। আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা ছিল।
আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, গত সতেরো বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে, এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজমের মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। আমি এসব প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করি এবং বিশ্বাস করি যে এগুলোর কোনো স্থান একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা উচিত নয়।