ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে বৈঠকে ট্রাম্প

৩০ মে, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে শুক্রবার দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি এখন সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসছি, যাতে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’ খবর বিবিসির।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে- তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীকে ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে খুলে দিতে হবে। এছাড়া জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়ে ধ্বংস করার সুযোগ দিতে হবে ইরানকে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।

তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়ে ইতোমধ্যে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

তবে ইরান বলেছে, তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না। দেশটি বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে শুক্রবার বলেন, ইরান মূলত যুদ্ধ অবসানের দিকে মনোনিবেশ করছে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনা রয়েছে এমন দেশগুলোতে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন- দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং আলোচনা এগোচ্ছে।  ট্রাম্প এক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তবে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর আসে।