সেন্ট মার্টিনে সালিস বৈঠকে ইউপি সদস্যের ওপর হামলা

৩০ মে, ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নে বিচার সালিসকে কেন্দ্র করে এক ইউপি সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলম গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গলাচিপা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলম ও সাবেক ইউপি সদস্য রশিদ আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই রশিদ আহমেদের সঙ্গে ছৈয়দ আলমের বিরোধ চলছিল।

এর আগেও তাদের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার বিকেলে গলাচিপা এলাকায় একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রশিদ আহমেদ ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আগে থেকেই অবস্থান নেয়। সালিস চলাকালে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ছৈয়দ আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলায় ছৈয়দ আলম মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

আহত ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলম বলেন, ‘আমার একটি বিচার সালিস বৈঠক ছিল। সেখানে পরিকল্পিতভাবে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত ছিল, যা আমি জানতাম না।

সালিসের একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি হলে তারা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার মাথায় দা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমি এখন চিকিৎসাধীন আছি।’

অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রশিদ আহমেদ বলেন, ‘আমার বড় ছেলের সঙ্গে অপর একটি ছেলেকে নিয়ে গতকাল ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে নিরপেক্ষ বিচার না করে উল্টো আমার ছেলেকে মারধর করা হয়। এতে আমার আত্মীয়-স্বজন উত্তেজিত হয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় কে কাকে আঘাত করেছে তা বলতে পারছি না। এ ঘটনায় আমিও আহত হয়েছি।’

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলমকে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী রশিদ আহমেদ ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আহত করেছে। বিষয়টি ইউএনও ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে একটি সালিস বৈঠকে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এক ইউপি সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’