নানা আয়োজনে পঞ্চগড়ে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত

০১ জুন, ২০২৬

‘দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে পঞ্চগড়ে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জুন দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।

সোমবার সকালে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মো. শুকেরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশের দুগ্ধ খাতের উন্নয়ন এবং দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে নারী খামারিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের সহায়তায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. শহিদুল ইসলাম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল হালিম, নারী উদ্যোক্তা আনোয়ারা বেগম ও শিমু আক্তার।

স্বাগত বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০০১ সাল থেকে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালন করে আসছে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো দুধের পুষ্টিগুণ, ডেইরি শিল্পের গুরুত্ব এবং এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোটি মানুষের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ৮ কোটির বেশি নারী দুগ্ধ খামার সংশ্লিষ্ট কাজে সরাসরি জড়িত। গবাদিপশু পালন, দুধ দোহন, সংরক্ষণ ও বিপণনসহ প্রতিটি ধাপেই নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে তাদের এই অবদান অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। এ বছর দিবসটির মাধ্যমে সেই অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুধ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের জন্য দুধ উপকারী। হাড়ের গঠন, মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে দুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিও দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।