গোলাপি বল ব্যবহারসহ ক্রিকেটে বদলে গেল যেসব নিয়ম

০১ জুন, ২০২৬

টেস্ট ক্রিকেটে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়া এবং ওভার নষ্ট হওয়া দীর্ঘদিনের এক বড় সমস্যা। এই সংকটের সমাধান খুঁজতে এবার ঐতিহাসিক এক নিয়মের অনুমোদন দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এখন থেকে টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন আলোর স্বল্পতা দেখা দিলে ফ্লাডলাইটের নিচে লাল বল পরিবর্তন করে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে।

গতকাল রবিবার (৩১ মে) আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভায় ক্রিকেট কমিটির একাধিক সুপারিশের পর এই পরীক্ষামূলক নিয়মের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ম্যাচ চলাকালীন এই বল পরিবর্তনের জন্য খেলা শুরু হওয়ার আগেই উভয় দলের সম্মতি থাকতে হবে। ইতোপূর্বে গোলাপি বল কেবল দিবা-রাত্রির (ডে-নাইট) টেস্টেই সীমাবদ্ধ ছিল। টেস্টকে আরও আকর্ষণীয় ও সময় সাশ্রয়ী করতে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সাথে যৌথ অর্থায়নে ফ্লাডলাইটের প্রযুক্তি নিয়ে আরও গবেষণা করার কথাও জানিয়েছে আইসিসি।

আইসিসি তাদের ক্রিকেটীয় নিয়মে আরও একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নির্ধারিত ড্রিংকস বিরতির সময় প্রধান কোচ কিংবা দলের মনোনীত স্টাফরা মাঠের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন এবং খেলোয়াড়দের কৌশলগত পরামর্শ দিতে পারবেন। এতদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেবল দ্বাদশ ব্যক্তি পানি নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় চিরকুট বা বার্তা বয়ে নিয়ে যেতে পারতেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউটের আদলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ মিনিট। বিরতি শেষে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাটারদের ক্রিজে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এছাড়া, ব্যাটাররা যখন ক্রিজে পজিশন পরিবর্তন করেন বা নড়াচড়া করেন, তখন আম্পায়ারদের নিখুঁতভাবে ওয়াইড ডাকার সুবিধার্থে গাইড লাইনের ব্যবহারকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে আইসিসি। বিশেষ করে লেগ সাইডে বোলারদের কিছুটা ছাড় দিতে ২০২৫ সাল থেকে এই ট্রায়াল শুরু হয়েছিল।

কোনো বোলারের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক মনে হলে মাঠের আম্পায়ার বা ম্যাচ অফিশিয়ালদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার্থে এখন থেকে হক-আই প্রযুক্তির ডেটা বা তথ্য সরবরাহ করা হবে। এর ফলে মাঠের আম্পায়াররা কোনো বোলারকে রিপোর্টেড করার ক্ষেত্রে আরও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।