সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ জোরদারে ঢাবি-চীনের যৌথ উদ্যোগ

০২ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং ব্লু ইকোনমির উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চীনের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে নতুন গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্ন্যান্স (ICOG-DU) এবং চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফি (FIO)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এক সেমিনারের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এ উদ্যোগ দেশের সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে ICOG-DU ও FIO-এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে ক্রেস্ট বিনিময় করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সমুদ্রবিজ্ঞান, উপকূলীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও চীনের চলমান বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।”

তিনি আরো বলেন, “বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা অনেকাংশে সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির সঙ্গে পরিচালিত যৌথ গবেষণা দেশের সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

আন্দামান সাগরে GNSS বয়া সফলভাবে স্থাপন এবং মেঘনা মোহনায় CNSS বয়া স্থাপনের চলমান উদ্যোগ বাংলাদেশের সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে। এসব প্রযুক্তি উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা, নৌনিরাপত্তা, দুর্যোগ-পূর্বপ্রস্তুতি, জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি পরিকল্পনায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, বলে মনে করেন উপাচার্য।

তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুমোদিত হিট উপপ্রকল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, “এটি দেশের গবেষকদের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।” গবেষণালব্ধ ফলাফল টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে এফআইও-এর বিজ্ঞানীরা আধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, সামুদ্রিক ভূ-ঝুঁকি এবং উপকূলীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। একইসঙ্গে HEAT প্রকল্পের অগ্রগতি, মডেলিং কাঠামো এবং GNSS Buoy Deployment Project-এর ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তি ও সংখ্যাগত Numerical মডেলিংকে সমন্বিত করা হয়েছে। Delft3D মডেলিং সিস্টেম ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দূষণের গতিশীলতা, বিষাক্ত পদার্থের বিস্তার এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দূষণ সঞ্চয়ের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ পরিবেশগত ডেটাবেইস গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষকদের জন্য রিয়েল-টাইম বয়া তথ্য বিশ্লেষণ, সমুদ্রবিজ্ঞানভিত্তিক মডেলিং, উপকূলীয় ঝুঁকি পূর্বাভাস এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণে দক্ষতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভারী ধাতু ও তেল দূষণের প্রভাব মূল্যায়ন এবং তা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি কার্যকর গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে।

HEAT ATF Sub-Project 13025-এর আওতায় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর, হিট প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড ক্যাপুয়ানো এবং FIO-এর বিজ্ঞানী ড. শুমিন জিয়াং। স্বাগত বক্তব্য দেন ICOG-এর পরিচালক অধ্যাপক কে. এম. আজম চৌধুরী।