০৩ জুন, ২০২৬
বিকেলের আকাশে বৃষ্টি না থাকলেও আচমকা শুরু হয় ঘূর্ণিঝড়। আর তাতেই ব্রহ্মপুত্রের বুক হয়ে ওঠে উত্তাল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডুবে যায় নৌকা, হারিয়ে যায় মালামাল। প্রাণে বাঁচলেও নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেকেই।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিলমারী উপজেলার রমনা ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫টি নৌকা ডুবে ও ভেঙে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর থেকে আকাশ মেঘলা ছিল। তবে বৃষ্টি না থাকলেও বিকেলের দিকে হঠাৎ তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাস শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে নদী উত্তাল হয়ে উঠলে ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় নৌকায় থাকা যাত্রী, মাঝি, শ্রমিকরা দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ আতঙ্কে নদীতে ঝাঁপ দেন। প্রবল বাতাস ও ঢেউয়ের তোড়ে ঘাটে নোঙর করা ছোট ও মাঝারি আকারের অন্তত ২০টি নৌকা তলিয়ে যায়। পাশাপাশি চারটি বড় নৌকা ভেঙে চুরমার হয়ে মালামালসহ নদীতে ডুবে যায়।
রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি গ্রামের নৌকা মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, মালামাল ও যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঠিক তখনই জলচ্ছ্বাস শুরু হয়। নৌকায় থাকা ৫৬ বস্তা সার, দুটি তেলের ড্রাম, সুপারির বস্তাসহ যাত্রীদের মালামাল পানিতে ডুবে যায়। অনেক চেষ্টা করে মাত্র তিন বস্তা সার উদ্ধার করতে পেরেছি। বাকিগুলো এখনও পানির নিচে রয়েছে।
আরেক নৌকার মালিক আলী হোসেন বলেন, ঘাটে নৌকাটি বাঁধা ছিল। হঠাৎ জলচ্ছ্বাসের আঘাতে আমার ৬০ হাত দীর্ঘ নৌকাটি দুমড়ে মুচড়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজু ইব্রাহিম বলেন, হঠাৎ জলোচ্ছ্বাস শুরু হলে রমনা ঘাটে বাঁধা থাকা আমার ২৫ হাতের একটি নৌকাসহ আশপাশের অন্তত ২০টি নৌকা ডুবে যায়। ছোট নৌকাগুলো স্থানীয়দের সহযোগিতায় তোলা গেলেও বড় নৌকাগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চিলমারী রমনা ঘাটের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা পুতুল রায় জানান, বিকেলে হঠাৎ প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই চারটি বড় নৌকা ভেঙে ডুবে যায়। আমাদের স্পিডবোটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অন্তত ২০টি ছোট নৌকা তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ডুবে যাওয়া মালামাল উদ্ধারে এখনও চেষ্টা চলছে।