এমপিওভুক্তির দাবিতে রোববার থেকে আমরণ অনশনে যাচ্ছেন এবতেদায়ী শিক্ষকরা

০৪ জুন, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার দাবি বৃহস্পতিবারের (৪ জুন) মধ্যে মেনে না নিলে আগামী রোববার থেকে কাফনের কাপড় পরে ‘আমরণ অনশন’ করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

দাবি আদায়ে ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটি’র ব্যানারে গত ২১ মে থেকে টানা ১৪ দিন ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। এমনকি ঈদের দিনও তারা রাজপথেই কাটিয়েছেন।বুধবার (৩ জুন) শিক্ষকরা সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল হান্নান হোসেন জানান, ১ হাজার ৮৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির নীতিগত অনুমোদন পেলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এখনো এর প্রশাসনিক আদেশ জারি করছে না। ফলে অর্থ বিভাগ থেকে টাকা বরাদ্দ আটকে আছে। দীর্ঘ ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো শিক্ষক বেতন পাননি।

শিক্ষকরা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমানের এই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গত চার দশক ধরে চরম অবহেলিত। বর্তমানে দেশে অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকরা মাত্র ৫ হাজার এবং সহকারীরা ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এর বাইরে আরও প্রায় ৬ হাজার মাদ্রাসা রয়েছে, যা কোনো সরকারি অনুদানই পায় না।

২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এই মাদ্রাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার নীতিমালা জারি করে এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এর নীতিগত অনুমোদনও দিয়েছিলেন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। সংগঠনের আহ্বায়ক শামসুল আলম বলেন, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও এবতেদায়ী শিক্ষকরা এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আগামী রোববারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা কঠোর অনশনে যেতে বাধ্য হবেন।