০৫ জুন, ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হোটেলটির মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গত বুধবার (৩ জুন) সকালে দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত ওই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ১২ জনই বিদেশি নাগরিক বলে জানায় রয়টার্স।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩ জন ম্যাক্স হাসপাতালে ও অপর ২ জন সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় বুধবার রাতেই ফ্লারিশ স্টে হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকে বৃহস্পতিবার চার দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। হোটেলটি পরিচালনাকারী হিসাবরক্ষক জয় মিশ্র এবং ম্যানেজার রাকেশকে খুঁজছে পুলিশ। বাজাজের মালিকানাধীন কাছাকাছি আরও দুটি একই ধরনের প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই ডজনেরও বেশি কক্ষ থাকা সত্ত্বেও হোটেলটির লাইসেন্স ছিল মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার জন্য। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি অগ্নিনিরাপত্তার বেশ কয়েকটি নিয়মও লঙ্ঘন করেছিল।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের বেজমেন্টে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। এর মধ্যে রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের অনাপত্তিপত্র (ফায়ার এনওসি) না থাকা, ভবনে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ থাকা, জানালাগুলো সিল করে রাখা এবং অনুমোদিত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোককে সেখানে অবস্থান করানো।