ইসলামী ব্যাংক সংকটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আহ্বান

০৫ জুন, ২০২৬

দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে চলমান পরিচালনাগত সংকট, পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং গ্রাহকদের আন্দোলনে বলপ্রয়োগের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ’। সংগঠনটি বলেছে, ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং স্বাধীন তদন্তের কোনো বিকল্প নেই।

শুক্রবার (৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ জানায়, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক দেশের ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জনআস্থার জন্য উদ্বেগজনক। সংগঠনটির মতে, ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশীজনদের যথাযথ সম্পৃক্ততা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব সিদ্ধান্ত যদি রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক চাপ বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে প্রভাবিত হয়ে থাকে, তবে তা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো, পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোন আইনি ভিত্তিতে এবং কী প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জনসম্মুখে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

একইসঙ্গে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি চলাকালে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ মনে করে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক উপাদান। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপ হতে হবে সংযত, মানবাধিকারসম্মত এবং জবাবদিহিমূলক।

সংগঠনটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিবর্তন সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি ও প্রক্রিয়া জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক চাপ বা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পরিবর্তনের অভিযোগ থাকলে তার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচিতে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রদান এবং গ্রাহক, আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সিটিজেন ইনিশিয়েটিভের মতে, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি দেশের ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব।