ভারতের অরুণাচলে ১৫টি মসজিদ সিলগালা

০৫ জুন, ২০২৬

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরে অননুমোদিত নির্মাণের অভিযোগে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, অরুণাচল প্রদেশ আদিবাসী যুব সংগঠন (এপিআইওয়াইও)-এর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপ নেয় প্রসাশন। সংগঠনটি কথিত অবৈধ দখল এবং অনুমোদনহীন ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। এর আগে রাজধানী জুড়ে ২৪ ঘণ্টার বনধ (ধর্মঘট) পালন করেছিল এপিআইওয়াইও এবং তাদের দাবি সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হলে আরও আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পি ডি সোনা বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এপিআইওয়াইও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর এক বৈঠকে বিষয়টি প্রথম সরকারের নজরে আনা হয়েছিল।

বৈঠকের পর সরকার জেলা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মিত স্থাপনাগুলো শনাক্ত করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীকালে এক সরকারি জরিপে ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স এলাকায় ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ স্থাপনা শনাক্ত করা হয়।

সোনা আরও জানান, জেলা কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত ১২টি স্থাপনা সিল বা খালি করার আগে আইনি প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি তিনটি মামলা ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী ও এপিআইওয়াইও নেতাদের মধ্যে আরেকটি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়, যার পরে সেই স্থানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘যে উদ্বেগের কারণে এপিওয়াইও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল, আইনসম্মত প্রশাসনিক পদক্ষেপের তার সমাধান করা হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার আগে এআইওয়াইও তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।’

এই ঘটনাটি অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত করেছে। রাজ্য কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, অরক্ষিত আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এর জন্য নিরন্তর নজরদারি প্রয়োজন।

গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর ডাকা একটি উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শমূলক বৈঠককে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ছাত্র সংগঠন, আদিবাসী সংগঠন, নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা আদিবাসী অধিকার, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক উদ্বেগ এবং ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অবৈধ অভিবাসন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 
সূত্র: এনডিটিভি