কুমিল্লায় এইডসে ৫ মাসে ৭ জনের মৃত্যু

০৬ জুন, ২০২৬

কুমিল্লায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে এইডস সংক্রমণ। গত পাঁচ মাসে এই মরণব্যাধীতে আক্রান্ত হয়ে জেলায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩৭ জন। এ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে বর্তমানে ১৫টি জেলার মোট ৫৪৬ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে শুধু কুমিল্লা জেলার বাসিন্দাই আছেন ৩৮৫ জন।

কুমেকের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান জানান, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ সমকামী ও পুরুষ যৌনকর্মী।

নিহত ২১ বছর বয়সি এক যুবকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী কুমিল্লা ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাদের বিয়ের আগেই এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়লেও বিয়ের সময় বিষয়টি গোপন রাখা হয়। স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিন আগে ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। স্বামীর মৃত্যুর পর কুমিল্লা মেডিকেলে পরীক্ষা করিয়ে ওই গৃহবধূ জানতে পারেন তিনিও এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কুমেকে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।

এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, নরসিংদী, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ ও বান্দরবান জেলার ৫৪৬ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, আগে বেশির ভাগ সংক্রমণ রক্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে ছড়াত। তবে এখন যেসব নতুন কেস পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশির ভাগই যৌনবাহিত।’

তিনি আরও জানান, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পুরুষে-পুরুষে সমকামী সম্পর্কের কারণে ৯১ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৪০ জন এবং প্রবাস থেকে ফেরত আসা ৪৯ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া এইচআইভি সংক্রমিত বিবাহিত স্বামীর মাধ্যমে ৪১ জন স্ত্রী এবং নারী যৌনকর্মীদের মাধ্যমে ২১ জন সংক্রমিত হয়েছেন।