০৮ জুন, ২০২৬
লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. লিয়াকত আলী আর নেই। আজ সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে লালমনিরহাট সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও দুই কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ সাংবাদিক। সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে হঠাৎ তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাঁকে দ্রুত লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃতের ছেলে নাঈম খান সাদ জানান, সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টার দিকে তাঁর বাবা স্ট্রোক করেন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
লালমনিরহাট প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বাদ এশা স্থানীয় নেসারিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থাকা লিয়াকত আলী দৈনিক সমাচার, নবচেতনাসহ একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। লালমনিরহাট জেলার নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগ তিনি সবসময় তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে লালমনিরহাটে গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন বলেন, "তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, স্পষ্টবাদী ও সাদা মনের একজন মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে লালমনিরহাটের সাংবাদিকতা অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।"
প্রবীণ এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে।