৯৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিল গিলবার্তো

১২ জুন, ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি শুধু গোল কিংবা খেলার মানের জন্য নয়, বরং রেফারি উইলতন সাম্পাইওর কার্ডের ছড়াছড়ির জন্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে অনেকদিন গেঁথে থাকবে। মেক্সিকো সিটির আসতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ছিল এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা।

তিনটি লাল কার্ড, দুই দলের ভিন্নমুখী পারফরম্যান্স এবং স্বাগতিকদের দাপুটে ফুটবলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো।  তবে এ ম্যাচটি বিশেষভাবে মনে রাখবেন মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা।

এই ফুটবলার ৬৫তম মিনিটে আলভারো ফিদালগোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এবং বিশ্বকাপের ম্যাচে মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েন।

১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সী মোরা ১৯৩০ সালে ম্যানুয়েল ‘চাকেতাস’ রোসাসের গড়া ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ডটি ভেঙে দেন। ১৯১২ সালে জন্ম নেওয়া এই ডিফেন্ডার ১৯৩০ সালে উরুগুয়ে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১৮ বছর ১৩৪ দিন বয়সে খেলার মাধ্যমে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ ফুটবলার ছিলেন।

এই তালিকার শীর্ষের কাছাকাছি থাকা অন্যান্য মেক্সিকান ফুটবলার মধ্যে রয়েছেন আলফ্রেদো তোরেস (১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ১৯ বছর ১৬ দিন), রাউল আরেলানো (১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ১৯ বছর ১০৮ দিন), আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো (২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে ১৯ বছর ২৬৯ দিন) এবং হুগো সানচেজ (১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে ১৯ বছর ৩২৬ দিন)।

ক্লাব তিহুয়ানার হয়ে গত দুই মৌসুমে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মোরা প্রধান কোচ হাভিয়ের আগুইরের আস্থা অর্জন করেছেন। যেখানে তিনি ৫৩টি ম্যাচে ১০টি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। অল্প বয়স হওয়া সত্ত্বেও, এই পারফরম্যান্সগুলো তাকে শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই এনে দেয়নি, বরং ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাবেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

গিলবার্তো মোরার দখলে থাকা অন্যান্য রেকর্ড

পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে মাত্র দুই বছরেই গিলবার্তো মোরা রেকর্ড ভাঙতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ২০২৪ সালে টিহুয়ানার হয়ে অভিষেকের সময় তিনি লিগা এমএক্স-এর ইতিহাসে ভিক্টর ম্যানন এবং মার্টিন গালভানের পরেই তৃতীয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মেক্সিকোর সিনিয়র দলে অভিষেকের সময়, মাত্র ১৬ বছর বয়সে মোরা দেশের ইতিহাসে এই কৃতিত্ব অর্জনকারী সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হন।২০২৬ বিশ্বকাপের দলে হাভিয়ের আগুইরের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত তাকে ম্যানুয়েল ‘চাকেতাস’ রোসাসকে ছাড়িয়ে মেক্সিকোর আরেকটি রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়াও, এই টুর্নামেন্টের বর্তমান সংস্করণে অংশগ্রহণকারী ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে গিল মোরা সর্বকনিষ্ঠ।

পেলের রেকর্ড ভাঙতে পারলেন মোরা

মেক্সিকোর আসন্ন ম্যাচগুলোর কোনোটিতে গোল করতে পারলে গিলবার্তো মোরা ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবেন। এই রেকর্ডটি এখনও অস্পর্শনীয়, যা ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের দখলে। তিনি ১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে তার জাতীয় দলকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন এবং সেই আসরে  কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে গোল করেছিলেন।