১২ জুন, ২০২৬
দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ গভীর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে সুদানকে। যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে দারিদ্র্যের হার তিন গুণেরও বেশি বেড়ে ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।একই সঙ্গে জীবিকা হারিয়েছে লাখো মানুষ। বিপর্যস্ত হয়েছে স্থানীয় অর্থনীতি এবং চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ।
দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী মোয়াতাসিম আহমেদ সালেহ বলেছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের জীবিকা পুনরুদ্ধারে ৫ লাখ যুব প্রকল্প চালু করবে সরকার। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
গত মঙ্গলবার মিসরের রাজধানী কায়রোয় এক সংবাদ সম্মেলনে সালেহ বলেছেন, নারী নেতৃত্বাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে এরই মধ্যে ১৫টি অংশীদারত্ব চুক্তি করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত নভেম্বরে বিশ্বব্যাংকের দৈনিক ৩ ডলার আয়সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ। সরকারি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ শুরুর আগে সুদানে দারিদ্র্যের হার ছিল ২১ শতাংশ, যা বেড়ে ৭১ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমানে তা আরও বেড়ে ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সালেহ বলেছেন, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদের একটি পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর আওতায় ৩০ লাখের বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসাকে সহায়তা দেওয়া হবে। এরইমধ্যে ১০ হাজারের বেশি প্রকল্প সুবিধাভোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বিদেশে বসবাসরত সুদানিদের দেশে ফিরে এসে অর্থনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বানও জানান।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত সুদানের স্থানীয় অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং লাখো মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে।
গত এপ্রিলে প্রকাশিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক মূল্যায়নে বলা হয়, চলমান সংঘাত সুদানের অর্থনীতিকে তিন দশকেরও বেশি সময় পিছিয়ে দিয়েছে। দেশটির গড় আয় ১৯৯২ সালের পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে।
সুদানি মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নও দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে সুদানি পাউন্ড ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যায়।
ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ ওয়ালিদ দালিলের মতে, মুদ্রার এই পতন যুদ্ধের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাবেরই প্রতিফলন। সংঘাতের কারণে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে যুদ্ধের পাশাপাশি দারফুর ও করদোফান অঞ্চলে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ড্রোন হামলাও বেড়েছে। এসব হামলায় হাসপাতাল, স্কুল এবং পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুদান ট্রিবিউনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি ড্রোন হামলায় ৪৮০ থেকে ৫০০ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।