সুন্দরবনে অপহরণের ৩ দিন পর বনবিভাগের বেতার চালকসহ তিনজনের মুক্তি

১৩ জুন, ২০২৬

সুন্দরবনে তিন দিন জিম্মি থাকার পর বনস্যুদের কবল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বন বিভাগের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বেতার চালক মো. ফরিদুল ইসলামসহ তিনজন। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কালামিয়া এলাকা থেকে তাদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে।

পরে অপহৃতদের উদ্ধারে বন বিভাগ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। অপহরণের পর বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে বেতার চালকের পরিচয় জানার পর মুক্তিপণ ছাড়াই শুক্রবার ভোররাতে সুন্দরবনের আমবাড়ীয়া এলাকায় চোখ বেঁধে অপহৃতদের ছেড়ে দেয় বনদস্যুরা।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিভাগ (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বেতার চালক মো. ফরিদুল ইসলাম ছুটি কাটিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা স্লুইস ঘাট থেকে সুন্দরবনের দুবলা ফরেস্ট অফিসে যাওয়ার জন্য তোফাজ্জেল সরদারের ট্রলারযোগে যাত্রা শুরু করে।

ট্রলারে ট্রলার মাঝি তোফাজ্জেলের সাথে তার সহকারী মো. আলকাসও ছিল। ট্রলারটি ওইদিন সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা বন অফিসে যাত্রা বিরতির পর দুবলার উদ্দেশে রওনা দিলে বিকাল ৫টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের কালামিয়া এলাকা অতিক্রমের সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা ট্রলারটিতে হামলা করে বন বিভাগের বেতার চালক ফরিদুলসহ ট্রলার মাঝি তোফাজ্জেল ও তার সহকারী আলকাসকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে। পরে বনদস্যুরা অপহৃতদের সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।

এদিকে, বেতার চালক ফরিদুল ইসলাম কটকা থেকে দুবলা বন অফিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরও সন্ধ্যায় তার কোনো সন্ধান না মেলায় বন বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। এই অবস্থায় সুন্দরবনের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিখোঁজ বেতার চালকের সন্ধানে বন বিভাগ, কোস্টগার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। এই অবস্থায় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা শুক্রবার ভোর রাতে সুন্দরবনের আমবাড়ীয়া এলাকায় চোখ বেঁধে অপহৃত তিনজনকে ছেড়ে দিয়ে যায়। এরপর ভোরে বনরক্ষীরা অপহৃতদের খুঁজে পায়। সুন্দরবনের বেতার চালক ফরিদুল ইসলামের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বনদস্যুরা অপহৃতদের কাছে কোনো মুক্তিপণ দাবি করেনি বলেও জানায় ডিএফও।