প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব : বিজিএমইএ

১৪ জুন, ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। শনিবার (১৩ জুন) রাতে এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএ এ মন্তব্য করেছে।

সংগঠনটি বলছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে সচল রাখা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দূরদর্শী প্রয়াস নেওয়া হয়েছে বাজেটে। সে জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ মনে করে, ২০২৬-২৭ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব হয়েছে। এতে ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রিক ধারণা থেকে সরে এসে সামগ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতগুলো গুরুত্ব পেয়েছে, এসবই বাজেটের অনন্য দিক।

বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ১০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক বলে বিজিএমইএ মনে করে।

সংগঠনটি জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটের সংস্কারমুখী ঘোষণাগুলো শিল্পের জন্য সহায়ক হবে বলে তারা মনে করে। তবে দেশে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা রক্ষায় সংগঠনটি মনে করে এ শিল্পে কিছু নীতিগত সহায়তা দেওয়া জরুরি, যেহেতু শিল্পটি বর্তমানে সংকটে রয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ইউনিট প্রতি গড় মূল্য ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যার ফলে বিগত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় সংগঠনটি কিছু দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হলো-

উৎসে কর হ্রাস : নতুন বাজেটে উৎসে কর হার আগের মতো ১ শতাংশ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান সংকট বিবেচনায় পোশাক রপ্তানির বিপরীতে এই কর ১ শতাংশ হতে হ্রাস করে ০ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা সরকারের ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি নীতির আলোকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল করার দাবি জানাচ্ছে বিজিএমইএ।

নগদ সহায়তার ওপর আয়কর হ্রাস : বাজেটে নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৫ শতাংশ করায় বিজিএমইএ সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। তবে বর্তমান তারল্য সংকট বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণরূপে মওকুফ (শূন্য শতাংশ) করার জন্য তারা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছে।

সাব-কন্ট্রাক্ট প্রক্রিয়ায় দ্বৈত কর নিরসন : ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোকে সচল রাখতে সাব-কন্ট্রাক্ট মূল্যের ওপর থেকে ১ শতাংশ দ্বৈত উৎসে করের অবসান এবং ভ্যাট অব্যাহতি পদ্ধতি আরও সহজ করা প্রয়োজন।

যৌক্তিক করপোরেট কর নিশ্চিতকরণ : পোশাক খাতের জন্য নির্ধারিত বিশেষায়িত করপোরেট কর হার (১২ শতাংশ এবং গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য ১০ শতাংশ) যেন অন্য কোনো আয়ের অজুহাতে বাড়িয়ে সাধারণ উচ্চ হারে অ্যাসেসমেন্ট না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার : ম্যান-মেড ফাইবার ভিত্তিক তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে প্রস্তাবিত পলিস্টার স্টেপল ফাইবারের (পিএসএফ) ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং পিভিসি রেজিন ও পেট রেজিনের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ মনে করে, পোশাক খাত কেবল দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী উৎসই নয়, বরং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ব্যবসার খরচ কমানো, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কাস্টমস ও বন্দর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো আরও সহজতর করা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ আশা করে, বাজেটে ঘোষিত বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত স্থিতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বাজেটে বিজিএমইএর যৌক্তিক দাবিগুলো সদয়ভাবে বিবেচনা করবেন।